নওগাঁয় নানা পরিচয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ

নওগাঁ সদর উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসা থেকে নানা পরিচয় দিয়ে এক মাদ্রাসার কিশোরী শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে । ঘটনার কয়েক দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম জান্নাতুন ফেরদৌস (১৫)। তিনি সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হাসান আলী আকন্দ ও নুরুন্নাহারের মেয়ে । গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার শাহানাবাগ সিটি ঈদগাহসংলগ্ন তাকরীমুল নিসা মহিলা মাদ্রাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিবার ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, জান্নাতুন ফেরদৌস দীর্ঘ চার বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিজেকে শিক্ষার্থীর নানা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মাদ্রাসা থেকে তাকে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অপহরণের অভিযোগ তোলেন।
শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, জান্নাতুনকে সাধারণত তার মা অথবা নানি ছাড়া অন্য কেউ আনা-নেওয়া করেন না। ফলে নানা পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এটি কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাজও হতে পারে।
ঘটনার পর মাদ্রাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কার জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে বা কে নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে যথাযথ তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও নেই। এতে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
শুক্রবার (২৬ জুন) সাড়ে ১১ টা থেকে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ও আশপাশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মো. শামছুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি স্থাপন, দর্শনার্থী নিবন্ধন এবং অভিভাবক যাচাই ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে হস্তান্তর না করার মতো ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
ভোরের আকাশ/এনউব