শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সফল সূচনা : ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

চট্টগ্রামকে আরো পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সূচনাতেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে মাসব্যাপী এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এরপর জেলার সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ নয়, বরং সচেতনতা ও স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে চান তারা।

৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, ৮টি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, ৪০৬টি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি স্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের আওতায় ভবনের ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রথম দিনেই এসব স্থান থেকে মোট ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

মাসজুড়ে চলবে কার্যক্রম

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ কার্যক্রম শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো মাসজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। প্রতি শনিবার বিভিন্ন এলাকা থেকে কতটুকু বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, তার হিসাব সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে তোলা ছবিও সংরক্ষণ করা হবে, যাতে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।

জেলা প্রশাসক জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বর্জ্যের পরিমাণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার দৃশ্যমান পরিবর্তনের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সকালের শোভাযাত্রাটি সার্কিট হাউস থেকে শুরু হয়ে কাজীর দেউড়ি, অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়। পরে কোর্ট হিল এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আইনজীবী ভবন এবং কার্যালয়ের ছাদে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সুস্থ পরিবেশ গড়াই মূল লক্ষ্য

আরও পড়ুন

ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সংকটের ভয়ে ইরানে হামলা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্নতা কেবল বর্জ্য অপসারণের বিষয় নয়; এটি একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছাড়া সুস্থ শরীর, সুস্থ মন এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে পরিচ্ছন্নতা তাদের জীবনযাপনের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি সপ্তাহে অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ এবং পরিচ্ছন্নতার দৃশ্যমান পরিবর্তনের ভিত্তিতে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।

ভোরের আকাশ/ইউএম

ডিসি জাহিদচট্টগ্রামপরিচ্ছন্নতা অভিযান

শেয়ার করুন: