রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে। চেয়ারম্যানসহ ১৫ সদস্যের নতুন পরিষদে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ শাখা-১ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন চেয়ারম্যান ও ১৪ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়।
নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি। সদস্য হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন ও রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন সাব্বির। এছাড়া প্রথমবারের মতো খিয়াং সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধিকেও পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন পরিষদের সদস্যরা হলেন—কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা রাঙামাটি সদরের শাশ্বত চাকমা রিংকু, বাঘাইছড়ির বিল্টু চাকমা, বরকলের সুবিমল চাকমা, জুরাছড়ির অনিল বরণ চাকমা, কাপ্তাইয়ের উথোয়াইমং মার্মা, কাউখালীর বেতবুনিয়ার পাইচিং মং মার্মা, রাজস্থলীর ঘিলাছড়ির মিস প্রেমা তালুকদার, খিয়াং সম্প্রদায়ের রাজস্থলীর বড় কুক্যাছড়ির তিমথী খিয়াং, রাঙামাটি সদরের গর্জণতলীর সুপর্ণ দেব বর্মন, লংগদুর বিএনপি নেতা মো. তোফাজ্জল হোসেন, রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন সাব্বির, সদরের তবলছড়ির মাষ্টার কলোনির মিস নন্দিতা দাশ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেত্রী মিস চন্দ্রা চাকমা।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ ও পরবর্তী সংশোধনী আইনের বিধান অনুযায়ী সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদটি পুনর্গঠন করেছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পরিষদ আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করবে।
একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর গঠিত আগের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিষদ গঠনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নেতাকর্মীদের নতুন পরিষদে মূল্যায়ন করায় বিএনপির তৃণমূলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে উচ্ছ্বাসও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পরিষদ গঠনের মাধ্যমে দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করায় পরিষদটি জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ