কাঁচপুরে পানিবন্দি পাঁচ শতাধিক পরিবার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের পাটাত্তা এলাকায় যে কোন সময় সামান্য বৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পানিবন্দ্বি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন পাটাত্তা এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। বৃষ্টির কারনে বাড়ির উঠান, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দোকানপাট ও মসজিদে যাতায়তে রাস্তায় পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এছাড়া পানি নিস্কাসনের স্থায়ী কোন ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রবে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন চর্ম রোগের আশঙ্কা নিয়ে দিনযাপন করছেন সেখানকার বাসিন্দরা।
কাঁচপুর পাটাত্তা এলাকার বাসিন্দারা জানান, পাটাত্তা এলাকায় আগে কখনো জলাবদ্ধতা ছিলনা। সরকার কাঁচপুর বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য আমাদের গ্রামের পাশে একটি বড় জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন খাল ও জলাশয় ভরাটের কারনে বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার পথ একেবার বন্ধ হয়ে যায়। যেকোনো সময় সামান্য বৃষ্টি হলেই পাটাত্তার পুরো এলাকায় হাঁটু ও কোমড় সমান পানি জমে যায়। যার ফলে পাটাত্তা এলাকায় বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দ্বি হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পানি সরাতে কোথাও কোথাও সেচ পাম্প ব্যবহার করে সাময়িক ভাবে চলাচল করলেও ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন সব কার্যক্রম। কিন্তু পাম্প দিয়ে পানি সরানোর পরও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় আবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রামে পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। একসময় এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা না থাকলেও সরেজমিন পাটাত্তা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাটাত্তার অনেক বাড়ির উঠানে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। কোথাও বাড়ি থেকে রাস্তায় যাওয়ার জন্য বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়েছে। আবার কোথাও গাছের গুঁড়ি ও সিমেন্টের পাটাতন ব্যবহার করে পানির ওপর দিয়ে চলাচল করছেন বাসিন্দারা। রাস্তায় পানি জমে থাকায় নামাজ আদায় করার জন্য মুসুল্লিরা মসজিদে যেতে পাড়ছেনা। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দ্বি হয়ে পড়েছে। পাড়া মহল্লায় মুদিদোকানীরা তাদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ময়লা আর্বজনার পানি মারিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সালমা বেগম নামে এক মুদিদোকানী জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই তাঁদের বাড়িঘর ও রাস্তায় পানি উঠে যায়। সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে তার দোকানে পানি ঢুকে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। পানির মধ্যে দোকানদারী করায় তার ছেলে কয়েক দিন ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। জলাবদ্ধতার কারণে ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের দাবি জানান তিনি। স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর খন্দকার বলেন, পাটাত্তা এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের অজানা নয়। বছরের বেশির ভাগ সময় এলাকাটি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের পানি মারিয়ে স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় যেতে হয়। দীর্ঘ সময় ময়লা পানিতে চলাচল করায় জ্বর, ঠান্ডা, চুলকানিসহ বিভিন্ন সমস্যায় রয়েছেন বাসিন্দারা। স্থায়ীভাবে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, পাটাত্তা এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের একটি প্রকল্প উপজেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে আশা রাখি জলাবদ্ধতা থাকবেনা।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, পাটাত্তা এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি বলেন। এলাকাটি জনবহুল ও বিস্তৃত হওয়ায় সামন্য অর্থে এখনই বড় ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ এনউব