পিরোজপুরে মাদ্রাসার লাইব্রেরি এখন সুপারের থাকার ঘর!

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের এস এম দারুচ্ছুনাত দাখিল মাদ্রাসার লাইব্রেরি ব্যক্তিগত থাকার ঘরে পরিণত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সুপার আব্দুল মান্নান এমন অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যেই মাদ্রাসায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে—মাদ্রাসার চারটি কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষই বসবাসের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। খাটে চাদর ও বালিশ বিছানো, কক্ষে পর্দা ঝোলানো—সব মিলিয়ে অফিস কক্ষটি পুরোপুরি বসতঘরে রূপ নিয়েছে। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থী অভিভাবক আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন,মাদ্রাসাটি ১২টা একটার মধ্যেই ছুটি হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি এমনভাবেই লক্ষ্য করছি।
অভিভাবক বেদার হোসেন শেখ বলেন, ২০ থেকে ২৫ বছর আগে তিনি এখানে যোগ দিয়েছেন। বহু বছর ধরে তিনি এখানে রাত কাটান।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বাসা ভাড়া না নিয়ে সুপার মাদ্রাসার ভেতরই নিজের বসতবাড়ি বানিয়ে নিয়েছেন। তাদের ভাষায়, আশেপাশের এলাকায় ভাড়া নিয়ে থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি তা না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। শিক্ষানুরাগী মহল বলছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা যখন অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত থাকার জায়গায় ব্যবহার করেন, তখন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন—এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মান ক্রমেই নিচে নেমে যাবে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মাদ্রাসাটিকে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপার আঃ মান্নান বলেন, দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে যে বলা হচ্ছে—এরকম কোনো ইতিহাস নেই।অফিস কক্ষে রাতযাপনের বিষয়ে বলেন,কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা ও শিক্ষকেরা থাকে, আপনারা সেই জায়গা দেখেন না। দেখেন এসে আলিয়া মাদ্রাসা। এখানে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল আলম বলেন,এরকম বিষয় আমার জানা নেই। যদি করে থাকে সেটা সম্পূর্ণ অনিয়ম। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম ও অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভোরের আকাশ/মো.আ.