গাইবান্ধা সদর উপজেলা
বিএনপির কাউন্সিলে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

দীর্ঘ ৯ বছর পর গাইবান্ধা সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৪ জন প্রার্থী।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টা থেকে শুরু হয় কাউন্সিল অধিবেশন। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত থাকলেও লাইনে ভোটার উপস্থিত থাকায় তা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট কাজী আমিরুল ইসলাম ফকু জানান, সভাপতি পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৬ জনসহ মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৩ ইউনিয়নের ৯২৩ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮৮৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হয়েছে গণনা, ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে।
এর আগে সকাল ১১টায় পৌর শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। পরে পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নুরুল আজাদ মন্ডল।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুলসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. ইলিয়াস হোসেন।
নেতাকর্মীরা জানান, যদিও তিনটি পদে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে মূল লড়াই হচ্ছে সভাপতি পদে মোশাররফ হোসেন বাবু ও আব্দুল আউয়াল আরজুর মধ্যে, সাধারণ সম্পাদক পদে আনিছুর রহমান নাদিম ও মাছুদুর রহমানের মধ্যে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নুর আলম সিদ্দিক পিটন ও হারুন অর রশিদ রাহাতের মধ্যে।
দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এ কাউন্সিল ঘিরে সকাল থেকেই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে সমবেত হন। তৃণমূল নেতাদের আশা, যোগ্য ও ত্যাগী প্রার্থী নির্বাচিত হলে নতুন নেতৃত্বে সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের পর একাধিকবার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলেও সদর উপজেলা বিএনপিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। প্রায় ৯ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটতে যাচ্ছে।
ভোরের আকাশ/জাআ