সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি: নিহত ১, আটক ৪

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আবু সাঈদ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আবু সাইদ দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের তাজ মিয়ার ছেলে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি একনালা বন্দুক, ৪টি পাইপ গান, ৭টি রামদা, ৯টি বল্লম, ৬টি বুলেট প্রুফ জেকেট, ১টি তাজা বুলেট এবং ১টি ফায়ারকৃত ব্ল্যাংক কার্টিজ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার রাতে জগন্নাথপুর উপজেলার গদালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা একরার হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত শুক্রবার দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় উভয় পক্ষ অস্ত্র প্রদর্শন করে। রবিবার (২২) জুন সেনাবাহিনী অভিজান পরিচালনা করলে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে হাতিয়া থেকে সন্ত্রাসীরা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে দুর্গম হাওর পথে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার গাদালিয়া গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
এ দিকে সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে ছাতক সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, রোববার (২২) জুন বিকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে অবৈধ অস্ত্র জব্দ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। সেনাবাহিনী সদস্যরা ওই গ্রামে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। পরবর্তীতে একরার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে শুরু করে। টহল দল উক্ত স্থানে গমনের পড় একজনের মৃতদেহ দেখতে পায়। মৃত ব্যক্তি কার গুলিতে মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে যৌথ বাহিনী উক্ত এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা মাধ্যমে সন্দেহজনক ৪ জন সন্ত্রাসী (তাজ উদ্দিন, আমির উদ্দিন, ইরন মিয়া এবং জমির মিয়া) আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিহত ব্যক্তি অজ্ঞান কোন সন্ত্রাসীর গুলিতে মারা গেছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও আটককৃত নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তাদের বাড়িতে তল্লাশী করে একটি একনালা বন্দুক, ৪টি পাইপগান, ৭টি রামদা, ৯টি বল্লম, ৬টি বুলেট প্রুফ জেকেট, ১টি তাজা বুলেট এবং ১টি ফায়ারকৃত ব্ল্যাংক কার্টিজ উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/জাআ