ফুলবাড়ীয়ায় জামায়াত নেতাকে গণধোলাই

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ কামরুল হাসান মিলনের ছোট ভাই ও জামায়াত নেতা কিরণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ২৪ শে চত্বরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ কামরুল হাসান মিলনের বিলবোর্ড গুড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ভয়েস অব ফুলবাড়ীয়া’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ফুলবাড়ীয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হন।
একপর্যায়ে সেখানে জামায়াত নেতা কিরণকে গণধোলাই করা হয়।একপর্যায়ে তার গায়ের পাঞ্জাবি টা ছেরে ফেলে বিএনপির নেতা কর্মীরা। বিএনপি নেতারা স্লোগানে বলেন জামায়াত শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের সময় জামায়াত শিবির নেতা কিরণ তার পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
একপর্যায়ে তাকে গণধোলাই দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে গণধোলাই খেয়ে চলে যান।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ‘ভয়েস অব ফুলবাড়ীয়া’র ফেসবুক আইডি থেকে ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতারা তা অস্বীকার করে বলেন, ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। তাদের দাবি, একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে উপজেলা পরিষদ ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ছাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ ভবন ঘেরাও করতে চেয়েছিল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে সাধারণ জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। জামায়াত-শিবিরের যেকোনো কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এ বিষয়ে জামায়াতের পরামর্শ বোর্ড সভার সদস্য মো. আব্দুল মজিদ বলেন, পরিষদ ঘেরাও এ জামায়াতের কোন কর্মসূচী ছিল না। কিরণ আমাদের দলের কেউ না। তবে এ ধরনের ঘটনা দু:খজনক।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে বিএনপি নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিক্ষোভ মিছিল নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছাইফুল ইসলাম বাদল, পৌর বিএনপির আহবায়ক একেএম শমসের আলী,পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল ফাজল,রুবেল আকন্দ,জেলা যুবদলের সহ সভাপতি আনোয়ার শাহাদাত আনার,যুবদলের সবুজ তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক জাকির হোসেন রিপন,পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক,মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক ডাঃ মোজাম্মেল হক মীর,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কামাল হোসেন প্রমুখ।
ভোরের আকাশ/ এনউব