অভিযান শেষ হতেই পদ্মায় ফের বালু উত্তোলনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া পুরাতন বালুঘাট এলাকায় প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে দুই দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ট্রাক জব্দ, জরিমানা এবং তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়ার পরও অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার বালু উত্তোলন শুরু হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। একাধিকবার অভিযান পরিচালিত হলেও স্থায়ীভাবে এই কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম এবং কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (ভূমি ও রাজস্ব) মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তালবাড়িয়া পুরাতন বালুঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তিনটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে দুটি ট্রাকের চালক ও সহযোগীদের আটক করা হলেও একটি ট্রাকের চালক ও হেলপার গাড়ির চাবি নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। জব্দ করা দুটি ট্রাক পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী আটক তিনজনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মেহেরপুরের মো. বিপুল (২০), নাঈম (২০) এবং কুষ্টিয়ার আমলা সদরপুর এলাকার রাসেল (২৩)।
এর আগে একই দিন দুপুরে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে দুটি বালুবাহী ট্রাককে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বশির নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০টি বালুবাহী ট্রাক ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এতে ধুলাবালি, শব্দদূষণ এবং ভারী যানবাহনের কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না, বরং অনেক সময় হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দার দাবি, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ অনুমতি নেই। তারপরও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু পরিবহন করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকি এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ