গাইবান্ধায় বিএনপি-জামায়াত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়তের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এসময় ককটেল বিস্ফোরণেরও ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা পানহাটিতে এ ঘটনা ঘটে। সময় হাটের একাধিক টিনের ঘর ভাঙচুরসহ গাছ কেটে ফেলা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, পানহাটির (পানের হাট) দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
এদিকে ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোটশিমুলতলা এলাকার পানহাটি সংলগ্ন পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুই দিকে দেশীয় অস্ত্র (হাঁসুয়া), বাঁশের লাঠি নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ছেন এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করছেন।
একই সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফারণ ঘটানো হলে পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষকে দিক-বিদিক ছুটতেও দেখা যায়। এসময় পানহাটিতে থাকা দুটি গাছ এবং হাটের কয়েকটি পানের দোকান (ছাউনি) ভেঙে ফেলা হয়।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান বলেন, সকালে পানহাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে, ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এ পানহাটিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২০ মে বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল আহত হন এবং ৩০ মে ভোরে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে সামিউলের মৃত্যুর জন্য বিএনপির ওই সংঘর্ষকে দায়ী করা হলেও পরে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে, তার আগে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষ থেকেই পলাশবাড়ী থানায় মামলা করা হয়।
ভোরের আকাশ/ইউএম