গাইবান্ধা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, বিপাকে এলাকাবাসীসহ পথচারী

গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। পলাশবাড়ী পৌর এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে এ সড়কের পাশেই। উৎকট দুর্গন্ধে শিক্ষার্থী, যানবাহনের চালক-যাত্রীসহ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন পথচারীরা।
জানা যায়, পলাশবাড়ী পৌরসভাটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হওয়া এই তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভাটিতে নির্দিষ্ট কোনো পয়েন্টে নেই ডাস্টবিন। ফলে ২৪টি এলাকার ময়লা-আবর্জনা নিয়ে এসে ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশেই।

এরই চারপাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা। মাত্র ২০০ গজ দূরে একই পথে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রয়েছে এনজিও সংস্থার অফিসও। যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসীসহ পথচারীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে আবাসিক এলাকায় দিনের পর দিন পৌরসভা থেকে এসব ময়লা-আবর্জনা ফেলায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা। নাকে কাপড় কিংবা নিশ্বাস বন্ধ না করে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া এখানে সব সময় ময়লায় উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকে।
তারা আরও বলেন, সেখান থেকে প্রতিনিয়ত যে দুর্গন্ধ ও ধোঁয়া বের হচ্ছে তাতে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি পথচারীদের নাকে কাপড় চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ায় আশপাশের অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও মিলছে না কোনো প্রতিকার। ফলে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।
বাসচালক সাইম খান বলেন, এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাই কোথাও তেমন দুর্গন্ধ না পেলেও এই জায়গাটিতে আসলেই চরম দুর্গন্ধ ঢুকে যায়। যেন নিশ্বাস নেয়াই বড় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় সময় এই জায়গায় গাড়ি আসলে যাত্রীরা বমি করে ফেলে।

পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আশিক খান রাফি বলেন, চরম দুর্গন্ধের কারণে এই পথ দিয়ে চলাচল করা খুব কষ্ট হচ্ছে। এই জায়গাটিতে আসলেই নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয় আমাদের। দ্রুত ময়লার ভাগাড়টি এখানে থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান এই শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. আল ইয়াসা রহমান তাপাদার ভোরের আকাশকে বলেন, পৌরসভায় ময়লা-আবর্জনা রাখার জন্য নিজস্ব কোনো জমি নেই। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে জমি খোঁজা হচ্ছে। আমরা বেশ কয়েকটি জায়গায় দেখেছি কিন্তু অধিক দাম থাকার কারণে এসব জায়গায় পৌরসভার পক্ষে ক্রয় করা সম্ভব না। তাছাড়াও যেসব জায়গায় দেখেছি সেখানে আবার ট্রাক যাওয়া আসা করার জন্য রাস্তায় না থাকায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে জমি নির্বাচন করা হলেই ওই জায়গায় আর ময়লা আবর্জনা ফেলা হবে না বলেন জানান এই কর্মকর্তা।
ভোরের আকাশ/মো.আ.