মৎস্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বন্যাকবলিত খামারিদের পাশে সরকার

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং দেশের মৎস্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই এ খাতের ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামার পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।
তিনি বলেন, সরকারি বীজ উৎপাদন খামারের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে উন্নতমানের রেণু ও পোনা উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশজুড়ে মৎস্যচাষিরা সহজে মানসম্মত পোনা সংগ্রহ করতে পারবেন এবং মাছের উৎপাদনের পাশাপাশি তাদের আয়ও বাড়বে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী পটিয়া সরকারি বীজ উৎপাদন খামার এবং খরনা ইউনিয়নের ভাইয়াদিঘী এলাকায় অবস্থিত একে ইউনাইটেড হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারিজ ঘুরে দেখেন। তিনি খামারের অবকাঠামো, উৎপাদন ব্যবস্থা ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
সরকারি খামার পরিদর্শনের সময় তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি টেকসই মৎস্য উৎপাদনে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় মৎস্যচাষি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দুর্ভোগের কথা শুনে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ-সহনশীল মৎস্য খামার গড়ে তোলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খামারিদের প্রশিক্ষণের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি মৎস্যপুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুকুর ও ঘের প্লাবিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ চাষকৃত মাছ ভেসে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াস, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় মৎস্যচাষিরা আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত সরকারি সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে তারা আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবেন এবং বন্যার কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন।
ভোরের আকাশ/জেআ