কক্সবাজার উপকূলে ১০ জলদস্যুসহ আটক ১৮, উদ্ধার ১২

কক্সবাজার উপকূলে পৃথক তিনটি অভিযানে কুখ্যাত জলদস্যু পারভেজ বাহিনীর ১০ সদস্য ও ৮ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
একই সঙ্গে জলদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি ৩ জেলেসহ গভীর সমুদ্রে ভাসমান ৯ বাংলাদেশি নাগরিক মোট ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার কোস্টগার্ড স্টেশন-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কলাতলী বিচ সংলগ্ন সমুদ্রে কোস্টগার্ডের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোট পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সেটি আটক করা হয়। বোটটি তল্লাশি করে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কুখ্যাত ডাকাত পারভেজ বাহিনীর ১০ সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয় এবং তাদের কবল থেকে জিম্মি ৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার ভোরে বাঁকখালী নদীর মোহনা এবং চট্টগ্রাম উপকূলে পৃথক অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এসব অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৫ হাজার লিটার ডিজেল, লুব্রিকেন্ট ও গ্যাস সিলিন্ডারসহ ৫ পাচারকারীকে আটক করা হয়। এছাড়া ৪৫০ বস্তা সিমেন্টসহ আরও ৩ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
এদিকে, মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নৌকাডুবির শিকার ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে এমটি মেঘনা প্রাইড নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ। পরে শনিবার ভোররাত ২টায় উদ্ধারকৃতদের কোস্টগার্ড জাহাজ মনসুর আলী-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, আটককৃত জলদস্যু ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই