পীরগঞ্জে পাচারের সময় সার জব্দ: কৃষকের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি

রংপুরের পীরগঞ্জে একই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দুই ইউনিয়নে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিএডিসির নিয়োগপ্রাপ্ত এক সার ডিলারের বিরুদ্ধে। পাঁচগাছী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ হাটে বিক্রি এবং কৃষকদের চাহিদামতো সার না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সম্প্রতি কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সার পাচারের সময় আট বস্তা সারসহ একটি ভ্যান আটক করেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ সারগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেয়। সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে সরকারি দামে বিক্রি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নিয়োগপ্রাপ্ত রাসায়নিক সার ও বীজ ডিলার ‘মেসার্স মন্ডল বীজ ভান্ডার’। প্রতিষ্ঠানটির নামে ২০১৬ সালে ১৬রং/বীজ ৩৫১/৩৬ নম্বর লাইসেন্স গ্রহণ করেন রফিকুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, পাঁচগাছী ইউনিয়নের ডিলার হলেও তিনি একই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে মিঠিপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ হাটেও সার বিক্রি করে আসছেন। তবে এ বিষয়ে দীর্ঘদিনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত রোববার ডিলারের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলী বাজার থেকে ভ্যানযোগে সার অন্যত্র নেওয়ার সময় স্থানীয়রা আট বস্তা পটাশ ও ডিএপি সার আটক করেন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ডিলারের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, তাঁরা সার কিনতে গেলে সর্বোচ্চ ২০ কেজি দেওয়া হয়। অথচ অন্য ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের নামে-বেনামে রসিদ কেটে বস্তায় বস্তায় সার সরবরাহ করা হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, পাঁচগাছী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার মাদারগঞ্জ হাটে একই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বেশি দামে বিক্রি করছেন ওই ডিলার। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে বিএডিসির সার ডিলার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তিনজন কৃষকের কাছে আট বস্তা সার বিক্রি করেছি।’ মাদারগঞ্জ হাটে একই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মাদারগঞ্জ হাটে কৃষকদের কাছে ৫ থেকে ১০ কেজি করে খুচরা সার বিক্রি করি।’
পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল বলেন, রোববার সন্ধ্যার পর পুলিশ ও স্থানীয়রা সারগুলো ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সারগুলো ৮ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, আটক সার বাজেয়াপ্ত করে উপস্থিত কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি করা হয়েছে। একই ডিলারের দুই ইউনিয়নে একই নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সার বিক্রির সুযোগ নেই। এ ঘটনায় ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা