খুলনার যুবক হাসিব ‘বি কোম্পানি’র নামে চাঁদাবাজি, চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার যুবক হাসিবের বাড়ি খুলনায়। গ্রেনেড বাবুর তৈরি ‘বি কোম্পানি’র নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে হাসিবুর রহমান ফরাজী ওরফে হাসিব খান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
হাসিব বিভিন্ন ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ব্যাংকার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত আট নয় জন এর কাছ থেকে বিকাশে চাঁদা আদায় করতেন। চাঁদা না দিলে সন্তান ও তাদেরকে গুম করা হব হলে হুমকি দিতেন। কোন প্রতিবাদ না করে নিরবে তার দাবি পূরণ করতেন এই সমস্ত ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যম হালিশহরের নীলাচল আবাসিক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে খুলনার ডিবি পুলিশ। চাঁদাবাজ হাসিব সেখানে মুরগির ব্যবসা করতেন। ডিবি পুলিশের দাবি, মুরগির ব্যবসার আড়ালে তিনি সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর নাম ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি ও তা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলতেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। হাসিবের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত ছয়টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেন। চাঁদা পরিশোধে ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরের সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা সিমের নম্বরেরও মিল পাওয়া গেছে।
উপকমিশনার আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হাসিবুর রহমান ফরাজী একসময় খুলনায় থাকতেন। তখন তিনি খুলনার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিকের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে লবণচরা, সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর থানায় অস্ত্র আইন, হত্যা, চুরি, মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে।
ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, একপর্যায়ে আশিকের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে যাই হাসিব। তখন খুলনা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যান হাসিব, আশিকের সঙ্গে থেকে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি চাঁদাবাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তবে নিজের পরিচয় আড়াল করতে মুরগির ব্যবসা শুরু করেন।
ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব জানিয়েছেন, সরকারি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে মোবাইল ফোনে ‘বি কোম্পানি’র নাম ভাঙ্গিয়ে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন এবং পুরোপুরিভাবে আদায় ও করতেন
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে ১ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালায় খুলনা মহানগর ডিবি। চট্টগ্রামের মধ্যম হালিশহর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হাসিব এর ভাষ্য মতে একাই চাঁদাবাজি করতেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইস ও সিম কার্ডের কললিস্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে, তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ