গাইবান্ধায় মহাসড়কের ডিভাইডারে চাষ হচ্ছে শীতকালীন সবজি

সবজির ভান্ডার হিসাবে বিখ্যাত জেলা বলা হয়ে থাকে গাইবান্ধাকে। 'তাই তো ফসলি মাঠের পাশাপাশি সড়কের ডিভাইডারেও চাষাবাদ হচ্ছে শীতকালীন সবজি।'
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক এখন আর কেবল যাত্রী ও যানবাহনের জন্য ব্যস্ততম সড়ক নয়, এর মাঝের ডিভাইডারে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক সবজির বাগান। ফলে রাস্তার দুইপাশের যাত্রীদের চোখে ধরা দিচ্ছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য, 'যা সড়কে এনে দিয়েছে সতেজতা ও প্রাণের ছোঁয়া।'

প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কের মাঝে এখন পেঁয়াজ, পেঁপে, মরিচ, মুলা, পালংশাক, লালশাক, লাউ ও ধনেপাতার মতো সবজির সমারোহ। এমন চমক সৃষ্টি করে প্রশংসায় ভাসছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও বিনামূল্যে বীজ পেয়ে স্থানীয়রা এই অভিনব চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে করে নিজেদের পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তারা।
মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী চালক ও যাত্রীরা এই দৃশ্য উপভোগ করছেন এবং অনেকেই গাড়ি থামিয়ে টাটকা সবজিও কিনছেন। দামেও পাচ্ছেন কিছুটা কম।
উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া ও আমিরুল ইসলাম এই মহাসড়কের ডিভাইডারে এসব সবজি চাষাবাদ করেছেন।
তারা জানান, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের রোড ডিভাইডারের বেশ কিছু জায়গা পরিত্যক্ত ছিল। এই স্থানে আলু, লাউ শাক, পালং শাক, লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় সবজির ভালো ফলনও হয়েছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশিদের মাঝে বিতরণসহ অন্যান্যদের কাছে বিক্রি করেছেন বলে জানান তারা।
পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'মহাসড়কের ডিভাইডারের এরকম শাক সবজি চাষাবাদ খুবই ভালো করেছেন কৃষকরা। তাদের সাদুবাদ জানাই। এ পথে চলাচলের সময় খুবই ভালো লাগে। টাটকা সবজি সেদিন এখানে থেকে কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম, বেশ ভালো লেগেছে। তাই এরকম পরিত্যক্ত জায়গা থাকলে সবজি চাষ করা উত্তম বলে আমি মনে করি।'
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান ভোরের আকাশকে বলেন, 'মহাসড়কের রোড ডিভাইডারের পরিত্যক্ত জাগায় সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ দেখে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ ধরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।'
ভোরের আকাশ/মো.আ.