শিক্ষার মানোন্নয়নে কক্সবাজারে স্টেক হোল্ডারদের মতবিনিময় সভা

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কক্সবাজারে প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। সভার সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, “ইতোমধ্যে জেলার সকল উপজেলায় নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে গেছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের আন্দোলন কেউই ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির সুযোগ নেই। একজন শিক্ষক তার মূল দায়িত্ব পালন না করলে তাকে প্রকৃত শিক্ষক বলা যায় না।”
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিশুর জন্মের পর থেকেই পরিবার ও সমাজ থেকে ভাষা শেখা শুরু হয়। পাঠ্যপুস্তক শিশুর বিকাশের একটি অংশ মাত্র; সহপাঠ্যবই ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিশুকে শারীরিকভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে। আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশই স্কুলকে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জীবনে সফল হতে শুধু জিপিএ–৫ প্রয়োজন নেই। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মাধ্যমে মানুষের কাছেই ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক বাংলা ভাষা শেখানো ও স্বাক্ষরতা দূরীকরণে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।”
প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারলে আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দক্ষ মানবসম্পদ হয়ে উঠবে। প্রাথমিক স্তরে ঘাটতি থাকলে উপরিস্তরে তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তানের মতো গড়ে তুলতে হবে।”
জেলা প্রশাসক আ: মান্নান বলেন জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা মানোন্নয়ন লক্ষ্য যেসকল স্কুল পিছিয়ে আছে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন জেলায় শিক্ষার হার ৬৭% এটি আরও দুর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে লার্নিং এন্ড শেয়ারিং মাধ্যমে যে স্কুলগুলো পিছিয়ে পড়ে আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।আমি আপনারা সবাই মিলে কক্সবাজার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা এগিয়ে নিয়ে যায়,বিশিষ্ট জেলা কক্সবাজার ৬৪ জেলার মধ্যে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া মত অবস্থান আছে এই জেলায়, সেই ক্ষেত্রে আমাকে আপনাকে গুরুত্ব দায়িত্ব রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা জানান, কক্সবাজার জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর যেসব অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, মাঠ উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ পিডিপি-৫ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা-সংক্রান্ত ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তারা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নুর মো. শামসুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
ভোরের আকাশ/জাআ