কুষ্টিয়া-৪ আসনে নির্বাচনে ‘অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ-এর ৭৮, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী-এর পরাজয়ের পেছনে দলীয় কিছু নেতার ‘সুপরিকল্পিত ভূমিকা’ রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার সমর্থক নেতাকর্মীরা।
রোববার কুমারখালীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম প্রামানিক আনছার, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান এবং খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান প্রকাশ্যে ও গোপনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত উল্লিখিত নেতারা দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন তো দূরের কথা, সাক্ষাৎ পর্যন্ত করেননি। এমনকি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানোরও জনশ্রুতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের পর দলের ভেতরে সমালোচনা শুরু হলে সংশ্লিষ্ট নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আমজাদ আলী এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আনিস-উজ-জামান-এর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কুমারখালী উপজেলায় দলীয় কমিটি গঠনে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ-সুবিধাভোগী ও আত্মীয়করণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বক্তারা দ্রুত সাংগঠনিক তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খোকসা পৌর বিএনপির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ভোরের আকাশ/এনএস