নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে মানুষ দিশেহারা

ফেণীর দক্ষিণান্চলে সাগর-স্নাত সোনাগাজীর গণমানুষের আজ দুঃখ একটাই,তা নদী ভাঙ্গন!
উপকূলবাসীর এমন অবস্থা যেন অল্প দুঃখে কাতর -অধিক শোকে পাথর! নদী তীরবর্তী মানুষ আশায় বুক বেধে ছিলেন এবার মনে হয় ছোট ফেণী নদীর সমুদ্র অববাহিকায় তলিয়ে যাওয়া মুছাপুর রেগুলেটরটি নির্মাণ কার্যক্রম চলতি বছরেই শুরু হবে। কিন্তু না, তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। মেগা প্রকল্প টি পড়ে আছে ফাইল বন্ধী হয়ে! তবে আশাপ্রদ বিষয় ও আছে।
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেহেনা আক্তার রানু'র এক দৃষ্টি আকর্ষণী প্রশ্নের আলোকে মাননীয় পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সংসদ কে জানান,একনেক মিটিংয়ে উত্থাপন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প টি। আশায় হতাশা তবুও ভরসা, এখন কেবলই অপেক্ষার পালা।
বিগত ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট সার্বিক কর্ম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৮৯৬ কোটি প্রায় নয়'শ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি শক্তিশালী টেকসই, স্থায়িত্বশীল মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেন যা সর্বশেষ একনেক সভায় উপস্থাপনের বাকি ছিল মাত্র।বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় দুই মন্ত্রী, এমপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ ৫ মাস আগে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন।
এবং সর্বস্ব হারানোর নদী ভাঙ্গনের শিকার অসহায় মানুষদের আশ্বস্ত করছিলেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।ইতোমধ্যে এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক,সুশীল সমাজ সহ গণমানুষের বহু দাবিনামা মানব বন্ধন কর্মসুচি ও বাস্তবায়িত হয়েছে।
মাননীয় বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি মহোদয় ও সরেজমিন নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মানুষের দাবির কারনে বাঁকা নদী সোজাকরনের মাধ্যমে নদীর পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহের নিমিত্তে নদীর মাঝখানের জেগে ওঠা চর অপসারণ সহ ক্যানেল খনন করার ও পরিকল্পনার কথা শোনা যায়।
তদুপরি বর্তমানে অব্যাহত নদী ভাঙ্গন সাময়িক রোধ কল্পে পাউবো'র মাধ্যমে জিও টিউব ব্যাগ ভর্তি বালি মাটির প্রটেকশন দিতে কিছু কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু ইহা চাহিদার তুলনায় বেশ অপ্রতুল বলে অনুমেয়। দৃশ্যমান চিত্রে ছোট ফেণী নদী( সাহেবের ঘাট)ব্রিজ সংলগ্ন উত্তর পূর্বাংশ কিভাবে দিনের পর দিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যা্চ্ছে তা নদীর ভাংগন চিত্রেই অবস্থা দৃষ্টে প্রতিয়মান।
এছাড়া উত্তর চরদরবেশ, রহমতপুর,তেল্লার ঘাট,প: চরসাহাভিকারী, পুর্ব দক্ষিণ চর পার্বতী, কাজির হাট স্লুইসগেট,আশ্রয়ন এলাকা,বাঁশবাজার,কাজীর হাট পুরাতন জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থান, আউরারখিল জেলেপাড়া, কাটাখিলা, চরমজলিশ পুর, মাওলানা পাডা, চরবদরপুর,কুঠির হাট কালী মন্দির এলাকায় ও নদী ভাঙ্গনের কবলে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে জনপদ ।
অধিকন্তু উপকূলীয় নোয়াখালী -ফেণীর জনসাধারণের পথ চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র সুবৃহৎ সেতুটি হুমকি সম্মুখীন। তাই আগামী একনেক সভায় মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্প টি অনুমোদনের মাধ্যমে আশায় বুক বেধে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকা গণমানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, এমপি মহোদয় সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আকুল আবেদন।
এটি আজ উপকূলের নারী পুরুষ সম্মিলিত সকলের প্রাণের দাবিই শুধু নই যা আজ সময়ের প্রধান দাবি।
ভোরের আকাশ/র.ই