দুই মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মেয়র আলমগীর, চমেকে ভর্তি

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আলমগীর চৌধুরীকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা দুটি হলো ২০১৩ সালে ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান হত্যা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চকরিয়ায় ইজিবাইক (টমটম) পোড়ানোর ঘটনায় করা মামলা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) আদালতে নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় আলমগীর চৌধুরীর শুনানি স্থগিত করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে চকরিয়া পৌর শহরের সায়মা প্লাজা থেকে আলমগীর চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চকরিয়ায় সহিংসতার অংশ হিসেবে ইজিবাইক (টমটম) পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় আলমগীর চৌধুরীকে ১১৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সোমবার তাকে ওই মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর চকরিয়া পৌর শহরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান নিহত হন। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য, মেয়রসহ ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলাতেও আলমগীর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আলমগীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রাউজানে হত্যা, চকরিয়ায় ইজিবাইক (টমটম) পোড়ানো এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই বিটু।
বিটু বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মামলায় আমার ভাইকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।’
এদিকে, চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী এলাকার এক বাসিন্দার করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাতেও আলমগীর চৌধুরী আসামি রয়েছেন। পরিবারের দাবি, ওই মামলার বাদী আদালতে আপসনামা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আটকের সময় আলমগীর চৌধুরী সায়মা প্লাজায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
আলমগীর চৌধুরীর শ্যালক ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘শনিবার রাতে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। গাড়িতে ওঠার আগে সায়মা প্লাজায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।’
সোমবার আদালতে নেওয়ার পর অসুস্থ বোধ করেন আলমগীর চৌধুরী। এতে তার শুনানি স্থগিত করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠান।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও নিম্ন আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করে প্রসেস জামিন নেওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তাকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি টমটম পোড়ানোর এবং অপরটি মিজান হত্যা মামলা। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা