হাওরে অকাল বন্যায় পানির নিচে বোরো ধান, কৃষকের আহাজারি

হাওরজুড়ে এখন ধান কাটার উৎসব হওয়ার কথা ছিল। সোনালী ধানের সুবাসে ভরে ওঠার কথা ছিল কৃষকের আঙিনা। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা সেই ধান আজ অথৈ পানির নিচে।
সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে, বিশেষ করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওর এলাকায় দেখা যাচ্ছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। পানি কিছুটা কমলেও কমেনি কৃষকের আহাজারি।
কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান। অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকরা ধান কাটার সুযোগই পাননি। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আধাপাকা ধান কাটছেন, কিন্তু সেই ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
রবিবার (০৩ মে) হাকালুকি হাওরপাড়ে কথা হয় স্থানীয় কৃষক আব্দুল কালাম (৬৫), আব্দুল হক (৫০), লিল মিয়া (৩৯), বাসির তালুকদার (৪৫), রেনু মিয়া (৪৯), তাজুল মিয়া (৫০), নামর মিয়া (৭০), রহমান মিয়া, ছইদ আলী (৪৫), হাজি মুক্তাদির (৬৪), চিনু মিয়া (৫৫), জয়নুল ইসলাম (৫০), নাজিম উদ্দিন (২৯)সহ আরও অনেকের সঙ্গে।
তারা বলেন, সারা বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু অকাল বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারের মুখে কী দেব, আর ঋণ কীভাবে শোধ করব,এই চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে।কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে ১০০০ টাকা দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ পানির মধ্যে নেমে কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না কেউ। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেরাই ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটছেন।
এদিকে কাটা ধান শুকানো নিয়েও পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। অনেক কৃষক সড়কের পাশে ঝুঁকি নিয়ে কাঁচা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন। সূর্যের আলো কিছুটা মিললেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানান তারা।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ধান কাটার জন্য এলাকায় হারভেস্টার মেশিন সরবরাহ এবং জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত সরকার বা কৃষি বিভাগ থেকে কোনো কার্যকর সহায়তা তারা পাননি।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি বছর হাওরে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী দিয়ে পানি প্রবেশ করে হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩৯২ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকার থেকে বরাদ্দ এলে তাদের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই