পার্লারকর্মী ঝিনুক হত্যার রহস্য উদঘাটন পিবিআই’র, গ্রেপ্তার ৪

মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ঝিনুক আক্তার (২৬) নামে এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও অপরাধের আলামত আড়াল করতে তার মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। নিহত ঝিনুক আক্তার গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার শাকিল মিয়ার মেয়ে।
পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে নীল রঙের একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতসহ বিভিন্ন জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শেরপুর। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রাম থেকে নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে সজল (৪৪) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ নভেম্বর একই এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, ঝিনুক টঙ্গীর একটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ২১ অক্টোবর সজল ও নুর ইসলাম ওরফে বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের পর ঢাকার উত্তরখানের কবিরশাহ মাজারে যান তিনি। সেখান থেকে তাঁকে দক্ষিণখানের মৌশাইর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। তদন্তে ওই বাসায় ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে তাঁকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার তথ্য উঠে এসেছে।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনুক সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে মাহবুবা আক্তার তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেন। কিন্তু ঝিনুক আরও টাকা দাবি করলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মাহবুবা ঘরে থাকা বটি দিয়ে ঝিনুককে আঘাত করেন। তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে অন্যরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ২৩ অক্টোবর শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঝিনুকের স্বামী সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
হত্যার পর মরদেহটি একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে রেখে যান আসামিরা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নুর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, এটি ছিল একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। অনৈতিক কাজের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই পিবিআইয়ের সদস্যরা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরাধীরা অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
ভোরের আকাশ/সু.পা