এনআইডিতে পরিচয় বদলেও শেষরক্ষা হলো না টিটুর, র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মনিরুজ্জামান ওরফে টিটুর। র্যাব-৮, সদর কোম্পানি, বরিশাল ও র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার জলসিঁড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ধারালিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মনিরুজ্জামান ওরফে টিটুর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর কাফরুল থানায় মামলা নম্বর ৫৭(৮)১৫ এবং বিশেষ মামলা নম্বর ২২৪/১৫ দায়ের করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা এ মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার পর গ্রেপ্তার এড়াতে মনিরুজ্জামান নিজের নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানাটি কার্যকর করার জন্য বরিশালের বানারীপাড়া থানায় পাঠানো হয়।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি এবং বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে তারা কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মনিরুজ্জামানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব-৮ ও র্যাব-১১-এর যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামানকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা