ফসল নস্ট করায় ছাগলের পা বেধে পানিতে ফেলে হত্যা

ঝং ধরা টিনের বেড়ার উপরে পলিথিনের চাল। সেই চালের এক পাশে পোষা তিনটি ছাগল, অপর পাশে টিন সেট ঘরে স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে বসবাস।
ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে চলত সংসার।আয়ের অবলম্বন তিনটি ছাগলের দুইটি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র দিনমজুর হালিম হাওলাদার।
হালিম হাওলাদারের অভিযোগ,রবিবার (১৬ আগষ্ট)বিকেলে তাঁর ছাগল দুইটিকে পা বেঁধে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় তিনি প্রতিবেশী সুনীল হালদারের নামে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন।
হালিম হাওলাদারের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৮ নং সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানী গ্রামে। ছাগল হত্যায় অভিযুক্ত সুনীল হালদারও ওই একই এলাকার মৃত মনোহর হালদারের ছেলে।
এ ব্যাপারে সুনীল হালদার বলেন, ‘ছাগল দুটি প্রায়ই আমার ফসলি জমিতে ঘাস খেতে আসত।আমি কখনো বোবা ছাগলদের আঘাত করিনি। ছাগলের মালিককে বহু বার বেঁধে পালতে বলেছি। তার সঙ্গে দীর্ঘ দিন যাবত
আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ভালো নয়। এ কারনে তিনি আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দিচ্ছেন। আমি ছাগল হত্যা করিনি।’
হালিম হাওলাদারের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁর বসতভিটা ছাড়া তেমন কোনো জমি নেই। দরিদ্র হওয়ায় সে দিনমজুরি করার পাশাপাশি ছাগল লালন পালন করেন। ভুলক্রমে তার দুইটি ছাগল প্রতিবেশী সুনীল হালদারের ফসলি জমিতে চলে যায়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাগল দুটির পা বেঁধে পানিতে ফেলে দেন। ছাগল দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তার ফসলি জমির পাশের ডোবায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছাগল দুটিকে ভাসতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় ডোবা থেকে ছাগল দুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
রোববার (১৭ আগষ্ট)সকাল ১১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একসঙ্গে দুইটি ছাগল মারা যাওয়া হালিম হাওলাদারের বাড়িতে স্থানীয় লোকজনের প্রচুর ভিড়। ঘরের বারান্দার এক পাসে বসে কাঁদছিলেন হালিমের স্ত্রী রোকসানা বেগম।
এ সময় হালিম হাওলাদার বলেন, 'গ্রামের সুনীলের সাথে মোর ঝগড়া চলছে। সুনীল এর আগেও হুমকি দিছিল, মোগো নিঃস্ব করি দিবে, মোর সংসার ফকির করতে যা করা লাগে করবে। সুনীল ওর কথা পালন করছে, মোরে ফকির বানাইল। এ্যাহন মুই নিঃস্ব। ও মোর ছাগল মাইরা ফেলাইছে। ছাগল ২ টার কি দোষ ছিল ? ও মোরে মারতো।
মুই ওর বিচারের জন্যে থানায় অভিযোগ দিছি। আমনেরা মোর লগে থাইকেন মুই যেন সঠিক বিচার পাই।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাপস কুমার ঘোষ বলেন, দুটি ছাগল মেরে ফেলার কথা গত রাতে আমি শুনেছি। শুনেছি থানায় অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। ছাগল গুলোর প্রকৃত মৃত্যুর কারন ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, দুইটি ছাগল মারা যাওয়ার ঘটনায় মালিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/রই