শিরোনাম
বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারতশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদেরপুলিশের এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ২ হাজার১০০ কিলোমিটারে ১৫ বছরের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর নয়সংবিধানে শিক্ষা-চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার করার প্রস্তাবনিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনী স্থগিতউদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসরানো হলো এসআরবি প্রধানকেবাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারতশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদেরপুলিশের এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ২ হাজার১০০ কিলোমিটারে ১৫ বছরের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর নয়সংবিধানে শিক্ষা-চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার করার প্রস্তাবনিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনী স্থগিতউদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসরানো হলো এসআরবি প্রধানকে

ছয় সন্তানের কেউই নিচ্ছেন না দায়িত্ব

৯৫ বছরের শামসুলের ঠিকানা এখন গাছতলা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
৯৫ বছরের শামসুলের ঠিকানা এখন গাছতলা
৯৫ বছরের শামসুলের ঠিকানা এখন গাছতলা

জীবনের সবটুকু সুখ, শ্রম আর ভালোবাসা বিলিয়ে ছয়টি সন্তানকে মানুষ করেছিলেন হাজী শামসুল হক মোল্লা (৯৫)। অথচ জীবনের শেষ সায়াহ্নে এসে সেই সন্তানদের কাছেই আজ তিনি এক মস্ত বড় ‘বোঝা’। 

জমিজমা লিখে নেওয়ার পর পাষণ্ড সন্তানরা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এখন ৯৫ বছরের এই বৃদ্ধের ঠিকানা হয়েছে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলের জীবনে আজ নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়ের সংসার রয়েছে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া, সাবিনা ও সালমার বিয়ে হয়েছে। আর ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক ও নিজের অর্জিত কিছু জমি বিক্রি করে কয়েক বছর আগে হজ পালন করেছিলেন শামসুল হক। তখন তাঁর কাছে থাকা অবশিষ্ট জমিজমা সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের খোঁজখবর নেওয়া তো দূরের কথা, তাঁকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে কাটিয়েছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার (আজ) সকালে মায়া তাঁকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে গেলে ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে ফেলে রাখেন। বৃদ্ধ পিতার প্রতি এমন অমানবিক আচরণের খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বড় মেয়ে মায়া বেগমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমার স্বামী অসুস্থ। তাছাড়া আমার বাড়িতে আমাদের প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলীও থাকে। সব মিলিয়ে আমার পক্ষে বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।"

মেজ মেয়ে সাবিনা বেগমের দাবি, "আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। অথচ দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি লিখে দিয়েছেন। এখন আমরা বোনেরা কেন একা বাবার দেখাশোনা করব?"

এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুল মোল্লার বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁদের স্ত্রীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শামসুল হক মোল্লার সব সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পরই সন্তানরা তাঁকে আশ্রয় দিচ্ছে না। তিনি যদি জমিজমা লিখে না দিতেন, তবে হয়তো আজ এই পরিণতি দেখতে হতো না। সন্তানদের এই নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, "আমি এখন কোথায় যাব? কী করব? কিছুই বুঝতে পারছি না। সারা জীবন এত কষ্ট করে যাদের বড় করলাম, আজ তারাই আমাকে বোঝা মনে করছে।"

বিষয়টি নিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, " বিষয়টি আমি শুনেছি এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। শামসুল হক সাহেবের সন্তানেরা যদি আইন অমান্য করে তাঁর দেখাশোনা না করেন, তবে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ভোরের আকাশ/রই
 

শেয়ার করুন: