নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ৪ আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী কবির হোসেনকে (৩৫) পিটিয়ে ও নির্যাতন চালিয়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে এসআইআরবি (র্যাব) এর সহায়তায় গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. আলাউদ্দিন মুন্সী (২৮,মো. ফারুক উদ্দিন শুভ (২৪),মো. হোসেন (৩৫) মো. তারেক (২৩)। এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত কাঠের টুকরা, গাছের লাঠি ও নাইলন রসি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত কবির হোসেন সুধারাম থানার নোয়াখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গাইন বাড়ি, ইসলামগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকার মৃত হানিফের ছেলে ও কমলা বেগমের পুত্র। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সুধারাম মডেল থানায় এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন।
তিনি জানান, ১০ অক্টোবর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে এজাহারভূক্ত আসামীগণ পূর্ববিরোধের জের ধরে সুকিনমুন্সি বাজারে এসে শারিরিক প্রতিবন্ধী কবির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হাতে থাকা গাছের লাঠি ও কাঠের টুকরা দিয়ে কবির হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে।
এ সময় নিহত কবিরের মা কমলা বেগম ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে আসামীরা তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে আহত করে। পরে দোকান থেকে নাইলন রসি এনে কবির হোসেনকে বাজারের পিলারের সঙ্গে বেঁধে দফায় দফায় মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ২০/২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জখম অবস্থায় কবিরকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে মাইজদীর দিকে নিয়ে যায় এবং কবিরের পরিবারকে জানায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হচ্ছে।
পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, কবির হোসেন মারা গেছেন এবং তার মরদেহ সুধারাম থানাধীন ১১নং নোয়াখালী ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের অণু মেম্বারের বাড়ির দরজার সামনে ইটের সলিং রাস্তার পাশে গাছের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। মরদেহের সুরতহাল ও লাশ পর্যবেক্ষণকালে পিঠ, পেট, দুই থাই ও দুই পায়ের রানে আঘাতের কালো দাগ এবং মুখে রক্তের দাগ পাওয়া যায়।
নিহতের মা কমলা বেগম (৫২) বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও সিসিটিভি ফুটেজ বা ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা