সাত খুন
সর্বশেষ ঝুলে আছে আপিলে

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন ঘটনার ১২ বছর অতিবাহিত হয়েছে। সর্বশেষ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় স্বজনরা।
আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতে আসামিদের আপিলের শুনানির ওপর ভিত্তি করেই এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।
দেশব্যাপি আলোচিত এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ নিম্ন আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। পরে আবার উচ্চ আদালত ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে।বাকি অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে।
উচ্চ আদালতের রায় বহাল রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে আসছেন নিহতের স্বজনরা।
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি এই মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, ব়্যাব-১১'র চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেন।
পরে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে আদালত ২০১৮ সালে ২২ আগস্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে অন্যান্য বাকী আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি চলমান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আপিল বিভাগেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করছেন। একই সাথে দেশ-বিদেশে আলোচিত ৭খুনের সাজার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি এক্ষেত্রে বিচার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি বলেন, আসামিরা খুব প্রভাবশালী। তারা জেলে ভিতর অবস্থান করেও এলাকায় তাদের প্রভাব রয়ে গেছে। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।
নিহতের স্বজনরা বলেন, আজকে এই হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু রায় কার্যকর হয়নি। সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষা। এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের রায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমসহ সাত জন।
তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল নজরুল ইসলামসহ ছয় জন এবং পহেলা মে সিরাজুল ইসলাম লিটনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দরের শান্তিরচর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় আলাদা দু'টি মামলা করেন।
ভোরের আকাশ/ র.ই