বাগেরহাটে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বৈধ দলিল ও নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
রামপালের উজলকুড় ইউনিয়নের ফয়লা সিএমবি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিকার চেয়ে ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেখ আজাহারুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, রামপালের ফয়লা সিএমবি মোড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক খলিলুর রহমান, মৃত শেখ আনছার আলী ও মরজিনা বেগমের বৈধ মালিকানাধীন মার্কেটের জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী ওরফে হালিম।
অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী ও তার সহযোগীরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন বলে দাবি করা হয়। প্রভাবশালী আত্মীয় ও মহলের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ভূমি দখলের মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
৩৫ বছরের পুরোনো ক্রয়কৃত জমিতে লোলুপ দৃষ্টি ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় ৩৫ বছর আগে তারা এই জমি ক্রয় করেন। জমিটির মূল দলিল, এসএ, আরএস এবং বর্তমান বিএস রেকর্ড সম্পূর্ণভাবে তাদের নামেই রয়েছে।
এর পরও গত ১৬ জুলাই অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী ও তার লোকজন হঠাৎ দলবল নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমিতে এমন হয়রানি ও দখলের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে কেবল বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারই নয়, বরং ওই এলাকার আরও বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি খাসজমি দখল: এলাকায় বিভিন্ন সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে জবরদখল করা।
বাজারের ব্যবসায়ীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অভিযুক্তের ছেলে ইশতিয়াক বাসিতের নেতৃত্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কতিপয় ব্যক্তিকে মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ও পরিবারটির আকুতি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জমি দখলের এই ভয়ানক পরিস্থিতির বিষয়ে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পুলিশ সুপার, রামপাল-মোংলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বারবার অবহিত করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বললেও রহস্যজনক কারণে পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ফের জোরেশোরে নির্মাণ ও দখলের কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার তাদের ক্রয়কৃত পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা, অভিযুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের নিরবতা ভেঙে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোরের আকাশ/রই