বগুড়ায় তেলজাতীয় ফসল বিষয়ে কৃষক প্রশিক্ষণ

দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল তেলজাতীয় ফসলের জাত সম্প্রসারণ, গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে দ্রুত বিস্তার এবং কৃষকদের আধুনিক উৎপাদন কৌশলে প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে বগুড়ার চেলোপাড়ায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সরেজমিন গবেষণা বিভাগে আয়োজিত ‘তেলজাতীয় ফসলের উন্নত জাত ও উৎপাদন কলাকৌশল’ শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির।
বক্তারা বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৫ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন হলেও এর প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সরিষা, সয়াবিন, সূর্যমুখী, তিল ও চিনাবাদামের আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গবেষণায় উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য মানসম্মত বীজ সরবরাহ, যান্ত্রিকীকরণ, বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি, বারির উদ্ভাবিত উন্নত জাত, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী দিনে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এর ফলে আমদানি ব্যয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বারি, বগুড়ার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান। সঞ্চালনা করেন একই বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহা তানবীর হাসান।
প্রশিক্ষণে শতাধিক কৃষক অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে বারির উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ