সুন্দরবনে কাকড়া ধরতে যাওয়া দুই জেলেকে কুপিয়ে আহত

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) খুলনার কয়রা উপজেলায় সুন্দরবনের গভীরে কাঁকড়া ধরতে যাওয়া দুই জেলেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। আহত দুই জেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের ওসমান সরদারের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩২) ও একই গ্রামের তাহের সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা দুজনেই গত কয়েকদিন আগে কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন থেকে কাঁকড়া ধরার বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে যান। প্রতিদিনের মতো রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে বনের ভেতরে নৌকার মধ্যেই ঘুমিয়ে ছিলেন তারা। এসময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে সুন্দরবনের ভেতরে অন্য জেলেরা তাদের রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়। হামলাকারীরা তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বনের ভেতরেই ফেলে রেখে তাদের ব্যবহৃত জাল ও নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহতদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (জায়গীর মহল হাসপাতাল) এ নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরিফুল ইসলাম বলেন, “রবিবার রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে আমরা যখন সুন্দরবনের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন একই বংশের বড় ভাই সফুর আলী তার দুই ফুফাতো ভাই শওকত আলী ও বাবুকে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। কেন আমাদের মারছে, তা আমরা জানি না। তখন আমাদের কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না। তারা আমাদের জাল-নৌকা নিয়ে আমাদের বনের মধ্যে ফেলে রেখে চলে যায়। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন বলেই এখনো বেঁচে আছি।”
এ বিষয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, “বিষয়টি আমরা শুনেছি ও অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোরের আকাশ/ এনউব