সাংবাদিক পুলকের পাওনা ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করল সমকাল

দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো অফিসের সাবেক প্রধান ও প্রবীণ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর তিন দিন পর তার বকেয়া পাওনা বাবদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সমকাল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সমকালের বর্তমান বরিশাল ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরীর মাধ্যমে এই অর্থ পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে সমকাল কার্যালয়ের ভেতর থেকে ৫৭ বছর বয়সি সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলক চ্যাটার্জির ভাই দীপক চ্যাটার্জি বলেন, ২০২৩ সালের মে মাসে পুলক চ্যাটার্জিকে সমকাল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। চাকরি হারানোর পর তিনি মানসিক কষ্টে ছিলেন।
মৃত্যুর আগে পুলক চ্যাটার্জি পাঁচটি চিরকুট লিখে রেখে যান। কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মেহেদি হাসান বলেন, পাঁচটি চিরকুট তার শার্টের বুক পকেটে পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একটি চিরকুটে দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীর কাছে সমকাল কার্যালয়ে গচ্ছিত থাকা তার পাওনা টাকা উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করা হয়েছিল। মৃত্যুর তিন দিন পর সেই পাওনা অর্থই পরিবারের কাছে পৌঁছে দিল সমকাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সুমন চৌধুরী বলেন, সোমবার তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে পাওনা ১০ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পুলক চ্যাটার্জি এক সময় বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জি ও একমাত্র মেয়ে প্রকৃতিকে রেখে গেছেন।
স্ত্রী ও কন্যার উদ্দেশে লেখা চিরকুটে পুলক ক্ষমা চেয়ে লিখেছিলেন, আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না। ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জির উদ্দেশে লেখা চিরকুটে স্ত্রী ও সন্তানকে আগলে রাখার আকুতি জানিয়েছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সুমন চৌধুরী বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ভোরের আকাশ/আ.র