সিদ্ধিরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার, প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি মজিববাগ এলাকায় (সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে) ডিএনডি খালের ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ ও নড়ভরে কাঠের সেতুটি গত দু’বছর ধরে বেহাল অবস্থায় আছে।
সেতুটির অধিকাংশ কাঠের পাটাতন পঁচে ও ভেঙ্গে গেছে। ফলে সেতুটি এখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও আদমজী ইপিজেড শ্রমিকসহ শত শত লোকজন পারাপার হচ্ছেন। গত এক বছর ধরে সেতুটি পূর্ব দিকের অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। স্থানীয়দের দাবি বিভিন্ন সময় মানুষ যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। আবারও যে কোন সময় সেতুটি ভেঙ্গে পড়লে বড় ধরণের প্রাণহানীর আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জরুরী ভিত্তিতে এ জরাজীর্ণ সেতুটি মেরামত করার জোর দাবি জানান স্থানীয় ও পথচারীরা। সোমবার সরেজমিনে গিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ নড়ভরে ও ঝুঁকিপুর্ণ কাঠের সেতুটি দিয়ে অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীদের পার হতে দেখা গেছে।
জানা যায়, বিগত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার আমল থেকেই ডিএনডি খালের ওপর মিজমিজি মজিববাগ এলাকায় একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। এ কাঠের সেতুটি ব্যবহার করে মিজমিজি মজিববাগ, আল-আমিন নগর, মিজমিজি পূর্বপাড়া,ও কদমতলী উত্তরপাড়াসহ আশপাশের লোকজন ডিএনডি খাল পার হচ্ছেন। কিন্তু সেতুটি মেরামত কিংবা পুনর্নিমাণ না করায় দিন দিন কাঠের সেতুটির পাটাতন অনেক স্থানে ভেঙ্গে গেছে। গত বছর ৬ মাস পুরো বর্ষার সময় এ কাঠের সেতুটির পাটাতন পানিতে ডুবন্ত ছিল। ফলে কাঠের অনেক পাটাতন পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জায়গার কাঠের পাটাতন ভেঙ্গে গেছে। দিন দিন আরো ভেঙ্গে যাচ্ছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন এ সেতুটির মেরামত কাজ করছেন না। ফলে সেতুটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, এ সেতুর পূর্বপাড়েই রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এ হাইস্কুলের অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরে বসবাস করেন। ফলে অনেক অভিভাবক তাদের কোমলমতি অধ্যয়রত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকিপুর্ণ এ সেতুটি পার হয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও কয়েকশ গজ দুরে রয়েছে আদমজী ইপিজেড। এ ইপিজেডে কর্মরত নারী-পুরুষ কাজে আসা যাওয়ার সময় এক সঙ্গে অসংখ্য শ্রমিক-কর্মচারী এ ঝুকিপুর্ণ কাঠের সেতুটি ব্যবহার করে ডিএনডি খাল পার হচ্ছেন। সেতুটি ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়ায় পথচারীরা পারাপারের সময় ভেঙ্গে পড়ার আতঙ্কে থাকেন। মজিববাগ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল বলেন, দুই বছর ধরে কাঠের এ সেতুটি ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ স্থানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য কর্মজীবি নারী পুরুষ যাতায়াত করেন। এ কারণে সেতুটির খুবই গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে থাকলেও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না। এ সেতুটি নিচে কমপক্ষে ১০-১৫ ফুট পানির গভীরতা রয়েছে। তাই সেতুটি ভেঙ্গে পড়লে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন সেতুটি মেরামতের ব্যবস্থা না করায় মজিববাগ এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা তুলে মাঝে মধ্যেই এ কাঠের সেতুটি মেরামত করা হয়। কিন্তু বেশিদিন সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। গত এক বছর ধরে এ কাঠের সেতুটির পূর্বাংশ (সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেইট গেট) চিটাগাং রোড-ইপিজেড-নারায়ণগঞ্জ সংলগ্ন সড়কের কাছে অংশটুকু ভেঙ্গে গেছে। এ ভাঙ্গা অংশ দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থী, কর্মজীবি নারী পুরুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। যে কোন সময় কাঠের সেতুটি ভেঙ্গে গভীর পানিতে পড়ে যেতে পারে। মিজমিজি মজিববাগ এলাকার আরেক বাসিন্দা দেলোয়ার বলেন, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কাঠের পুলের স্থানে একটি পাকা সেতু নিমাণ করতে পারতেন। অথচ অন্য সাইট দিয়ে পাকা সেতু নির্মাণ করেছেন। কিন্তু লোকজন এ স্থান দিয়েই ডিএনডি খাল পার হতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি বলেন, আদমজী ইপিজেড কাজে যোগদানের সময় সকাল ৭টা থেকে ৯ টা পযন্ত এবং বিকেল ৫টার পর কর্মজীবিরা রাত ৯টা পযন্ত এ সেতু দিয়ে বাসায় ফিরতে থাকেন। এছাড়াও স্কুল ছুটি ও ক্লাশ শুরুর সময় এ সেতুতে শিক্ষার্থীদের পারাপারের সংখ্যও বেড়ে যায়।
মিজমিজি মজিববাগ মধ্যবর্তী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপুর্ণ সেতুটি স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা-পয়সা তুলে ৭-৮ বার মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন পরেই সেতুটি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেতুটি এতো ঝুঁকিপুর্ণ থাকা সত্ত্বেও সিটি করপোরেশন মেরামত করতে এগিয়ে আসছে না। স্থানীয় দোকানী নূর মোহাম্মদ বলেন, কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুবিধার্থে এ স্থানে পাকা সেতু নির্মাণ করছেন না। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন যদি সেতুটি মেরামত না করেন তবে ঝুঁকিপুর্ণ সেতুটি ভেঙ্গে ফেলতে পারেন। কিন্তু তারা তাও করছেন না। তবে কি কাঠের সেতুটি ভেঙ্গে পানিতে পড়ে গিয়ে লোকজনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হলে তারা সজাগ হবেন? নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহকারি প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেবনাথ (সিভিল) বলেন, এ ঝুঁকিপুর্ণ কাঠের সেতুটি মেরামত করার কোন পরিকল্পনা নেই।
এটি ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এলাকার লোকজন মেরামত করে চলাচল করে।পাশের পাকা সেতু দিয়ে লোকজন পারাপার হবেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব