রূপগঞ্জে আড়াই বছর পর প্রবাসীর লাশ উত্তোলন

দাফনের আড়াই বছর পর ময়নাতদন্তের জন্য পূর্বাচল উপশহরের বরকাউ গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ইমন হোসেনের (৪২) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহানের তত্ত্বাবধানে কালনী এলাকার পূর্বাচল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় আনসার সদস্য, রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, ঢাকা জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্য এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত ইমন হোসেনের বাবা মজিবুর রহমানের দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পূর্বাচলের বরকাউ গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে ইমন হোসেনের সঙ্গে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানার পূর্ব মুগারচর এলাকার হযরত আলীর মেয়ে রানু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রাহাত মিয়া ও ইসরাত জাহান নামে দুই সন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত চার-পাঁচ বছর ধরে ইমন ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর মধ্যে ইমন হোসেন মালয়েশিয়ায় চলে যান। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। পরদিন ১৯ জানুয়ারি পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ২০ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই একই দিন সন্ধ্যায় কালনী এলাকার পূর্বাচল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে ইমন হোসেনকে দাফন করা হয়।
এদিকে, ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল ইমনের বাবা মজিবুর রহমান ঢাকা জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৩ নম্বর আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পান করিয়ে ইমন হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে।
মামলায় ইমনের স্ত্রী রানু আক্তার (৩২), শ্বশুর হযরত আলী (৬০), শাশুড়ি পিয়ারা বেগম (৫২) এবং শ্যালক ভুলু মিয়াকে (২৮) আসামি করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা সিআর মামলা নম্বর ৩২৩/২০২৪-এ দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মরদেহ উত্তোলন ও ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার বাদী মজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এবং ইমনের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহান বলেন, আদালতের নির্দেশে ইমন হোসেনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা