এক টুকরো মাংসের আশায় বাসায় বাসায়; ঈদেই জোটে মাংস

ঈদুল আজহা আনন্দ, ত্যাগ আর ভাগাভাগির উৎসব। সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানি দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস বিতরণ করেন। কিন্তু সমাজের এক বড় অংশের মানুষের কাছে এই ঈদ মানে শুধুই একবেলা মাংস-ভাত খাওয়ার স্বপ্ন। বছরের অন্য সময় যাদের ঘরে মাংস ওঠে না বললেই চলে, তারা কোরবানির ঈদের দিন ব্যাগ হাতে ঘুরে বেড়ান বাড়ি থেকে বাড়ি শুধু দু-এক টুকরো মাংসের আশায়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এমন চিত্র দেখা যায়। কোথাও বৃদ্ধা নারী, কোথাও শিশু, আবার কোথাও অসহায় পুরুষ সবার হাতে ছোট ব্যাগ কিংবা পলিথিন। যেসব বাড়িতে পশু কোরবানি হয়েছে, সেসব বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তারা বিনয়ের সঙ্গে একটু মাংস চান। কেউ দেন, কেউ ফিরিয়ে দেন। তবুও আশাহত হন না তারা। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে ছুটে চলেন সারাদিন।
গ্রাম ও চরাঞ্চল থেকে আসা এসব মানুষের পদচারণায় শহরের অলিগলিও যেন অন্য এক বাস্তবতার গল্প বলে। কোরবানিদাতারা যখন পশুর মাংস ভাগ ও প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যস্ত, তখন আশপাশে ঘুরতে দেখা যায় দরিদ্র মানুষদের। অনেকের চোখে ক্লান্তি, কিন্তু তবুও থাকে একটুখানি আশার আলো আজ হয়তো পরিবারের সবাইকে নিয়ে একবেলা মাংস-ভাত খাওয়া যাবে।
জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ধনী লোকদের কোরবানিতে আমাদের হক থাকলেও অনেকে তা মানতে চায় না। বাড়ির সামনে গেলে তাড়িয়ে দেয়, কখনও ধাক্কা দিয়েও বের করে দেয়। তারপরও হাত পাতি, যদি এক টুকরো মাংস দেয়।
সদর উপজেলার বাদিয়াখালী থেকে আসা জুলেখা বেগম বলেন, আমাদের গ্রামে কয়েক বছর ধরে তেমন কোরবানি হয় না। তাই ঈদের দিনেও ব্যাগ নিয়ে শহরে আসতে হয়েছে। একটু মাংস পেলেই পরিবারের সবাই মিলে খেতে পারব।
সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর থেকে শিশু হামিম মিয়ার কণ্ঠেও ছিল অভাবের নির্মম বাস্তবতা। সে প্রতিবেদককে বলেন, মাংস নিতে আসছি। যা পাব, বাবা-মাকে নিয়ে একবেলা খাব।
শহরের গোরস্থানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, বছরজুড়ে কোরবানির ঈদের মতো একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করেন এসব দরিদ্র মানুষ। যাদের কাছে মাংস কেনা বিলাসিতা, তাদের স্বপ্ন থাকে অন্তত একদিন মাংস-ভাত খাওয়ার। তাই তাদের প্রতি একটু সহানুভূতি দেখানো আমাদের দায়িত্ব।
একই এলাকার আব্দুল হালিম মন্ডল বলেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি দেই প্রতি বছরেই। তাই ভাগের মাংস যতটা সম্ভব দরিদ্র মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করি। সমাজের বিত্তবানদের আনন্দের এই উৎসব দরিদ্র মানুষের কাছেও যেন একটু হাসি বয়ে আনে এমন প্রত্যাশাই সবার। কারণ ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল কোরবানিতে নয়, বরং সেই কোরবানির আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই।
ভোরের আকাশ/এম