লালমনিরহাটে প্রতিকূল আবহাওয়া : লোকসানের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পাটচাষিরা

লালমনিরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে পাটের কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ার আশঙ্কায় মাথায় হাত পড়েছে শত শত পাটচাষির। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকা, দফায় দফায় অতিবৃষ্টি এবং নদীভাঙনের কারণে ক্ষেতেই পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে এ বছর পাটের উৎপাদন খরচ তোলাই এখন কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে মোট ৪,০৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ করা হয়েছে। এতে পাটের মোট ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৯,৫৪৯ মেট্রিক টন। কিন্তু আবহাওয়ার বৈরী আচরণের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ মৌসুমে আবহাওয়া একবারে অনুকূলে ছিল না। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় রোদের অভাব এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আবহাওয়ার কারণে পাটের দৈহিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ বছরের তুলনায় এ বছর পাটের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত কম হয়েছে, যা আঁশের মানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
"এমনিতেই সার, বীজ ও শ্রমিকের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। তার ওপর নদীভাঙনে অনেক জমির পাট বিলীন হয়ে গেছে আর টানা অতিবৃষ্টিতে নিচু এলাকার পাট ক্ষেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে। পাটের দৈর্ঘ্য ছোট হওয়ায় এবার ফলন অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। এভাবে চললে পাটের উৎপাদন খরচ তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।"
লালমনিরহাট সদর উপজেলা খুনীয়াগাছ ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক মোঃ নূরআলম বলেন, বিএস এর সঠিক পরামর্শ ও মাঠে উপস্থিত না থাকায় এবং চলতি মৌসুমে নদীভাঙন ও অতিবৃষ্টির ডাবল আঘাতে জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একদিকে নদীগর্ভে জমি বিলীন হওয়া, অন্যদিকে ক্ষেতে পানি জমে পাটের বৃদ্ধিতে ধস নামা—সব মিলিয়ে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
এ বিষয়ে দ্রুত সরকারি সহযোগিতা ও উপযুক্ত বাজারমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা, যেন তারা অন্তত তাদের মূলধনটুকু টিকিয়ে রাখতে পারেন।
ভোরের আকাশ/ইউএম