শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে ৮৫ নং ইসলামিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দূর্গাপ্রসাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে ৮৫ নং ইসলামিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে প্রথমে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন সময় বিদ্যালয়টিতে কয়েক শত শিক্ষার্থী ছিল। সে সময় কয়েক শত শিক্ষার্থীর জন্য জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পরবর্তীতে আরো একটি ভবন নির্মাণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রথম দফায় নির্মিত ভবনটির বয়স দীর্ঘ ৩১ বছর অতিবাহিত হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে পর পর কয়েক দফা ভবনটির ছাদের পলেস্তরা খসে ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবগত করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত ভবনটি ২০২৫ সালের মে মাসে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।
দ্বিতীয় ভবনটিতে তিনটি কক্ষ থাকলেও একটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজে। অবশিষ্ট দুটি কক্ষে দুই স্তরে নিয়মিত পাঠদানকালে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবের জন্য বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী ভাবে একটি এক চালা টিনের ঘর নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে টিনের ঘরে একটি ব্যাঞ্চে গাদাগাদি করে চারজন শিক্ষার্থী বসার ফলে অতিরিক্ত গরমে প্রায় সময় শিশুরা অসুস্থ্য পড়ছে।
এছাড়া একটি কক্ষের অতিরিক্ত শব্দের কারণে পাশাপাশি আরেকটি কক্ষে পাঠদানে মনোযোগী হতে পাড়ছেনা শিক্ষার্থীরা। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান। সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, অত্র বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণি কক্ষ না থাকায় রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে অস্থায়ী একটি টিনের ঘরে কয়েক স্তরে পাঠদান চলছে। একটি কক্ষের শব্দের কারণে পাশের কক্ষে পাঠদানে মনোযোগী হতে পাড়ছেনা শিক্ষার্থীরা।
এতে করে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বর্তমান সময়ে বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ না থাকায় প্রচন্ড গরমেও একটি ব্যাঞ্চে দুই জনের বিপরীতে গাদাগাদি করে চারজনকে বসতে হয়। সময়মত না আসলে বসার জায়গা পাওয়া যায়না। পাশের কক্ষের চেঁচামেচিতে শিক্ষকদের পড়া ঠিকমতো বোঝা যায় না।
দূর্গাপ্রসাদ এলাকার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে ৮৫ নং ইসলামিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। টিনের ঘরে প্রচন্ড গরমের কারনে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার। বিদ্যালয়ের সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান জানান, আমি নিজেও এক সময় এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম। এখন আমার দুই মেয়ে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
শ্রেণি কক্ষ সঙ্কটে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার জানান, তিন কক্ষ বিশিষ্ট প্রথম নির্মাণ করা পুরানো ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত বছর ২০২৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। যার ফলে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি একটি টিনের ঘর তুলে দেওয়ায় সেখানে অস্থায়ী ভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। রোদের সময় টিনের চালা গরম হয়ে গেলে, সে সময় শিক্ষার্থীদের খুবই কষ্ট হয়। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করালেও স্থান সঙ্কটে বাচ্চাদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। নতুন একটি ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে আবেদন করা হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, ৮৫ নং ইসলামিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট সমাধানে, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশাবাদী অতিদ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা