সাটুরিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি, বিএডিসি ডিলারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক ডিলারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই সঙ্গে জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফুকুরহাটী ইউনিয়নের জান্না বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেন ফুকুরহাটী ইউনিয়নের জান্না বাজারের বিএডিসির ডিলার। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সানোয়ার হোসেনের বিক্রি করা ডিএপি সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। কৃষকেরা জানান, ওই সার জমিতে প্রয়োগের পর আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাঁরা সার পরীক্ষা করে সেটি ভেজাল বলে সন্দেহ করেন।
বুধবার সানোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ডিএপি সার কেনেন জান্না এলাকার কৃষক গোলাম হোসেন, সাইজুদ্দিন ও আব্দুল করিমসহ কয়েকজন কৃষক। পরদিন সকালে তাঁরা জমিতে সার ছিটাতে গিয়ে দেখতে পান, সারের দানাগুলো মাটির মতো। পরে পানিতে মেশালে তা কাদার মতো হয়ে যায়।
বিষয়টি তাঁরা ফুকুরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে জানান। চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওকে অবহিত করেন। পরে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পরীক্ষায় সার ভেজাল প্রমাণিত হলে ডিলার সানোয়ার হোসেনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কৃষক গোলাম হোসেন, সাইজুদ্দিন ও আব্দুল করিম বলেন, ‘বুধবার ডিলারের কাছ থেকে ডিএপি সার কিনেছিলাম। জমিতে দেওয়ার সময় দেখি সেগুলো মাটির মতো। পানিতে দিলে কাদার মতো হয়ে যায়। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছি।’ অনেক কৃষক জমিতে ভেজাল স্যার প্রয়োগ করেছে। এতে কাঙ্খিত ফসল ফলানো সম্ভব নয়। এই ফসলহানির জন্য দায়ী সার ডিলার সানোয়ার।
চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে জানার পর আমি বিষয়টি কৃষি অফিসার ও ইউএনওকে জানাই। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
জিয়াউদ্দিন বলেন, পলাতক আওয়ামী লীগ ও তাঁদের দোসররা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রি করছে। শুধু জরিমানা করলেই হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভেজাল সার বিক্রির বিষয়ে ডিলার সানোয়ার হোসেন বলেন, “তিনি সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আক্কাসের কাছ থেকে ওই সার সংগ্রহ করতেন।”
জানা যায়, প্রতি বস্তা সার তিনি ৩০০ টাকা দরে কিনতেন এবং কৃষকদের কাছে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বিএডিসির আসল ডিএপি সারের প্রতি বস্তার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। ফলে ভেজাল সার উচ্চ দামে বিক্রির অভিযোগটি কৃষকদের জন্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম, সাটুরিয়া থানার পুলিশের একটি দল এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে সারের সরবরাহ ও মান নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভেজাল সার বা বীজ বিক্রি করে কৃষকদের প্রতারিত করার চেষ্টা করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ভোরের আকাশ/রই