সরিষাবাড়ীতে সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৬নং ভাটারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ধোপাদহ জুলারখুপী গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে ডি.জে.এস আইডিয়াল স্কুল হয়ে ভুইঁয়া বাড়ী তালতলা পুকুর পাড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক আজ যেন অবহেলা ও বঞ্চনার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন পড়ে থাকায় এটি এখন আর শুধু একটি রাস্তা নয়—বরং দুর্ভোগের এক নিত্যসঙ্গী। কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে সড়কটি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বর্ষা এলেই সড়কটি পরিণত হয় কাদার সাগরে। হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিঃশ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যাতায়াত এখন জীবননাশের ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও বয়স্কদের জন্য এই পথ যেন এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়েও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,বারবার দাবি জানানো
পর কয়েক বছর আগে রাস্তার নামে বরাদ্দ আসলেও নামমাত্র কাজ করে টাকা উত্তোলন করে একটি সিন্ডিকেট মহল। সড়কটির উন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তাদের মতে, এই অবহেলা শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই বাধাগ্রস্ত করছে না—বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তুলছে।
স্থানীয়রা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন করুণ অবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে, নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে পরিবারগুলো।
ধোপাদহ গ্রামের সাজু মিয়া বলেন,“এত বছর ধরে শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখিনি। এই রাস্তা এখন আমাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই জনদুর্ভোগের অবসান সম্ভব নয়—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ভোরের আকাশ/ র.ই