শিগগিরই খুলছে কুড়িগ্রামের শিশুপার্ক

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কুড়িগ্রামে দৃশ্যমান হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশুপার্ক। জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত পার্কটির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আবেদন করার পর পরিদর্শন প্রক্রিয়া শেষ হলেই সর্বসাধারণের জন্য পার্কটি খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পরিষদ।
তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলাসহ ১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের বসবাস। জেলার ৯টি উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে চার শতাধিক চরাঞ্চল। জেলা শহরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঘনবসতি থাকলেও শিশুদের সুস্থ বিনোদনের জন্য এতদিন উল্লেখযোগ্য কোনো পার্ক ছিল না। শিশুদের বিনোদনের এই ঘাটতি পূরণে জেলা পরিষদ ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন নিজস্ব ৭৩ শতাংশ জমিতে শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয় ধরে পার্ক নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
নান্দনিক নকশায় নির্মিত পার্কটিতে থাকছে সুইং চেয়ার, মিনি ইলেকট্রিক ট্রেন, অ্যাডভেঞ্চার কার, মেরি-গো-রাউন্ড, জেড কোস্টার, ওয়ান্ডার হুইল, বাউন্সিং ও রকার বাই হ্যান্ডসহ বিভিন্ন রাইড। পাশাপাশি থাকছে শিশুদের জন্য আলাদা খেলার মাঠ।
পার্কের চারপাশে বসানো হয়েছে সোলার স্ট্রিট লাইট। তৈরি করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক ও আধুনিক প্রবেশপথ। দেয়ালে আঁকা হয়েছে শিশুবান্ধব বিভিন্ন ছবি ও সচেতনতামূলক নানা স্লোগান। নির্মাণাধীন অবস্থাতেই এসব আয়োজন স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুজ্জামান বলেন, পার্কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে এখনো হস্তান্তরের আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে হস্তান্তরের আবেদন করার প্রত্যাশা রয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরুজুল ইসলাম জানান, হস্তান্তরের আবেদন এখনো তারা পাননি। তবে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিদর্শন প্রতিবেদনে সব কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত হলে স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পার্কটি উদ্বোধন করা হবে। পার্কটি চালু হলে শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, কুড়িগ্রামে অন্য কোনো পার্ক না থাকায় শিশুপার্কটি দ্রুত চালুর বিষয়ে তারা তৎপর রয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আবেদন করার পর এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের পরিদর্শন প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্রুতই কুড়িগ্রামবাসীর জন্য পার্কটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।