শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যার কষ্টে থাকা প্রতিবন্ধীদের হাতে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

বন্যার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলার ২০০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। শুধু সহায়তার ব্যবস্থা করেই থেমে থাকেননি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা; নিজে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নগরের লালখানবাজার এলাকার শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ডিজঅ্যাবল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডিডিআরসি)-এর নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের কাছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন জানান।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও যুবক খাদ্য সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সাধারণ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সহায়তা নিতে সক্ষম হচ্ছেন না। ফলে তাঁদের জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আবেদন পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী মানুষরা দুর্যোগের সময় বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে হলে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন সহায়তা শুধু খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সামাজিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করায় সুবিধাভোগীরা আরও উৎসাহিত হয়েছেন। মানবিক এই উদ্যোগের জন্য তিনি জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিতরণ করা প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ফ্যামিলি সাইজ বিস্কুট, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, লাইটার, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।

আয়োজকরা জানান, দুর্যোগের সময় প্রতিবন্ধী মানুষের প্রয়োজন সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। তাই তাঁদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা: কোনটিতে খরচ কত, মিলবে কী সুবিধা

ত্রাণ পাওয়া কয়েকজন সুবিধাভোগী প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বন্যার কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী পেয়ে তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সহায়তার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোরের আকাশ/এনউব

ত্রাণ

শেয়ার করুন: