শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

হোগল গুঁড়ায় স্বাবলম্বী হাইমচরের শতাধিক পরিবার

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদীবেষ্টিত চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে হোগল গুঁড়া সংগ্রহের ব্যস্ততা। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো হোগলা গাছের ফুল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির মাধ্যমে এ অঞ্চলের শতাধিক পরিবার বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

উপজেলার চরভৈরবীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বর্ষার শুরুতেই হোগলা গাছে ফুল আসে। দুর্গম এসব চরে স্থানীয়রা নৌকায় যাতায়াত করে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ফুল সংগ্রহ করেন। পরে বাড়িতে এনে কয়েক দিন রোদে শুকানো হয়। শুকানোর পর চট বা বড় পাত্রে রেখে আলতোভাবে আঘাত করলে ফুল থেকে সূক্ষ্ম গুঁড়া বের হয়। এরপর চালনিতে ছেঁকে প্রস্তুত করা হয় ব্যবহারের উপযোগী হোগল গুঁড়া।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই হোগল গুঁড়া দিয়ে দুধ, নারকেল ও গুড় কিংবা চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু পায়েস বা ফিরনি। বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ জনপদে এই বিশেষ খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি হোগল গুঁড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চরভৈরবীর স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চর থেকে হোগলা ফুল সংগ্রহ করা বেশ কষ্টসাধ্য। শুকানো ও গুঁড়া তৈরিতেও অনেক শ্রম দিতে হয়। তবে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আমাদের পরিবারের ভালোই আয় হচ্ছে।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘হোগল গুঁড়া দিয়ে তৈরি খাবার এলাকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। পারিবারিক আয়োজন ও অতিথি আপ্যায়নে এর বিশেষ কদর রয়েছে।’

এদিকে হোগল গুঁড়ার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকলেও কৃষিজমিতে হোগলার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার নিয়ে সতর্ক করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা। হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার বলেন, ‘হোগলা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ফসলের জমি দখল করতে পারে। তাই কৃষকদের ফসলি জমিতে পরিকল্পিতভাবে হোগলা চাষ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন

তিনি আরও বলেন, ‘চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো হোগলা থেকে ফুল বা গুঁড়া সংগ্রহে কৃষি বিভাগের কোনো আপত্তি নেই। তবে কৃষিজমিতে এর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধ করা জরুরি।’

স্থানীয়দের মতে, হোগল গুঁড়া কেবল একটি মৌসুমি খাবার নয়, এটি হাইমচরের চরাঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতিরও একটি অংশ। বর্ষার দিনে কৃষিকাজের চাপ কমে এলে হোগলা সংগ্রহ ও বিক্রি চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও বাড়তি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

হোগল গুঁড়ায় স্বাবলম্বী

শেয়ার করুন: