শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ল্যানসেট হাসপাতালের পার্কিংয়ে ক্যান্টিন-ফার্মেসি, সিডিএর অভিযান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিডিএর অভিযান
সিডিএর অভিযান

চট্টগ্রাম নগরে আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা এবং ভবনের নির্ধারিত পার্কিং এলাকা ব্যবহার করে ক্যান্টিন ও ওষুধের দোকান পরিচালনার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের চিত্রও উঠে এসেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নগরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে সিডিএ। এ সময় ল্যানসেট হাসপাতাল, শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আল হিদায়াহ স্কুল পরিদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন ব্যবহারের ধরন, অনুমোদিত নকশা এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসঙ্গতি শনাক্ত করে সংস্থাটি।

অভিযান শেষে অনিয়ম সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সিডিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, আবাসিক এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং নকশার বাইরে ভবন ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। হাসপাতালগুলোকে ঘিরে অপর্যাপ্ত পার্কিংয়ের কারণে সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই কার্যক্রম কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; মূল লক্ষ্য হচ্ছে নগরীর পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম বন্ধ করা। আবাসিক ভবনে যেসব হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোকে এক মাসের মধ্যে বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আবাসিক ভবনে পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলোর পার্কিং-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কিছু ক্ষেত্রে তিন মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আগের অভিযানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে বাস্তবে এসব ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

ল্যানসেট হাসপাতালের পরিচালক মহসীন হোসেন বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন তাদের রয়েছে। মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তবে পার্কিং ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

তার ভাষ্য, সিডিএ যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছে, সেগুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে। ভবনটি আবাসিক হিসেবে কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে, সেটি ভবন মালিকের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং অতীতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন

শক্ত করে চুল বাঁধলে মাথাব্যথার কারণ কী?

সিডিএ সূত্র জানায়, দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও পরিদর্শন চালানো হবে। তখন অনিয়ম বহাল থাকলে আইন অনুযায়ী সিলগালা, উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, আবাসিক ভবনে অনুমোদনবহির্ভূতভাবে হাসপাতাল, স্কুল কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের ক্ষেত্রে পার্কিং, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি সময়ে নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা সরাসরি জননিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাদের মতে, অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পরিদর্শন করা জরুরি। শুধু নির্দেশনা দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কতটা নিয়ম মেনে চলছে, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ধারাবাহিক মনিটরিং প্রয়োজন।

শেয়ার করুন: