শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ধামরাইয়ে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, বিপথগামী তরুণ সমাজ

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:২০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ে শহর, গ্রাম যে কোন জায়গায় মাদকের ছড়াছড়ি। মাদক যেন অতি সহজলভ্য বিষয়। যুব সমাজ মাদকের থাবায় আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। হাত বাড়ালেই তাদের কাছে মিলছে মাদক।

প্রায় প্রতিটি এলাকায়,অলি গলি, রাস্তার মোড়ে  মাদক বিক্রি ও মাদকসেবীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।  মাদক কারবার অনেক লাভ জনক হওয়ায় উঠতি বয়সের তরুণরা মাদক বিক্রি ও মাদক সেবনে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। আইনপ্রয়োগেও থামানো যাচ্ছে না মাদকের ভয়াবহ অবস্থা। বেড়েই চলেছে মাদক ও মাদক কারবারি ও সেবনকারীর সংখ্যা। 

ধামরাই উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাটবাজার বাসষ্ট্যান্ড, অলিগলিতে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, মদ ও তামাকজাতদ্রব্য সহজলভ্যতায় যুবসমাজের একটা অংশ মাদক নামক মরণ নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।  মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা  লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করছে। পুলিশ ও র‌্যাব মাঝে মধ্যেই অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য সহ মাদক কারবারিদের ধরেও থামানো যাচ্ছে না এই সিন্ডিকেট কে। এর বিপরীতে অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে আছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের মাদক উদ্ধারে তেমন সক্রিয় ভূমিকা ও তৎপরতা নেই বললেই চলে। কখনো তাদের অভিযান সহজে চোখে পড়ে না।

ফলে মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আটক করতে খুব একটা দেখা যায় না। গত পাঁচ মাসে মাদকের আগ্রাসন রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাত্র ৪ টি  অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু কাউকে ধরতে পারছে বলে জানা যায় নি। মনে হয় মাদক কারবারিরা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। 

উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মাদক উদ্ধার অভিযান, মাদক চোরাকারবারিদের গ্রেপ্তার, মামলা তদন্ত ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় ঢাকা-ক সার্কেল।  সেখান থেকেই সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের কাজ পরিচালনা করেন। এ কার্যালয়ে একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি টিম রয়েছে। দির্ঘদিন ধরে বিশেষ করে ধামরাই উপজেলায় ওই কর্মকর্তাদের অভিযান চোখে না পড়ার মতো । 

জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই টিম চলতি বছরের  জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে ৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে ধামরাই এলাকায় ।

ধামরাই থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি  জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত  ধামরাই থানায় মাদক উদ্ধার অভিযানে মামলা হয়েছে ৮২টি। এর মধ্যে পুলিশের ৭৭টি, র‌্যাব-৪-এর একটি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪টি মামলা করা হয়েছে। নভেম্বর মাসে ধামরাই থানায় মাদকের বিষয়ে মামলা হয়েছে ৯টি। এর মধ্যে র‌্যাব একটি ও পুলিশের আটটি মামলা রয়েছে। এখানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্তাদের কোন ভূমিকা মেলেনি। 

আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, মাদক এখন সব জায়গায়। মাদকের ছড়াছড়িতে যুব সমাজ অধপতনের দিকে। মাদকাসক্ত সন্তান পরিবার তথা সমাজের জন্য ভয়ংকর। বিভিন্ন সময় টেলিভিশন, পত্র পত্রিকায় দেখি নেশার টাকার জন্য মা বাবাকে খুনও করছে। 

জহিরুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, মাদক কারবারিদের যতদিন আইনের আওতায় না আনা যাবে ততদিন মাদক কমবে না। ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের দৌরাত্ম বাড়বে। 

এক স্কুল শিক্ষক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা জোরদার করতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা যুব সমাজকে বুঝাতে হবে। একটি পরিবার নিশ্বেশ করতে পরিবারে একজন মাদকসেবিই যথেষ্ট। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে। 

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এ পর্যন্ত অনেক মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। মামলাও হয়েছে অনেক। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে। 

ঢাকা বিভাগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের  অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামকে তার  মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও  তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রশঙ্গত ধামরাই থানা পুলিশ কয়েকটি বড় অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কালামপুর ও কাউয়ালিপাড়া এলাকায় মাদকের চালান ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

ভোরের আকাশ/মো.আ.

ধামরাইমাদকদ্রব্য

শেয়ার করুন: