খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রা

জগতের প্রতিপালক পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ২ নম্বর প্রকল্প গ্রাম ও বৃহত্তর সনাতনী ত্রিপুরা সমাজের আয়োজনে সার্বজনীন শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জগমল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা, ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা, রাধা বঙ্কুবিহারী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অমৃত লাল ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি দারুণ বিকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ধনেশ্বর ত্রিপুরা।
তিনি বলেন, আজকের এই আলোচনা সভার তাৎপর্য শুধু এই দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর শিক্ষা সারাজীবন মনে রাখা, হৃদয়ে ধারণ ও নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রীকৃষ্ণ বহু বছর আগে মানুষের কল্যাণের জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষা অন্যায় ও অশুভের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে যখন অশুভ ও দুষ্ট শক্তির প্রভাব বেড়ে যায়, তখন ভালোকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়। জীবনের সব খারাপ ও অকল্যাণকর বিষয় পরিত্যাগ করে ভালোকে ধারণ করতে হবে।
জন্মাষ্টমীর এই দিনে অন্যায় পরিহার, সত্য ও ন্যায়কে ধারণ, মানবতার পাশে দাঁড়ানো এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, ব্যক্তি জীবনে এসব আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলেই সমাজ ও দেশ আরও সুন্দর, শান্তিময় ও মানবিক হয়ে উঠবে।
বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আলোচনা সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা