ক্যানসারে আক্রান্ত দিনমজুর মুরাদ, স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর আকুতি

একদিকে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াই, অন্যদিকে স্বামীকে হারানোর আতঙ্ক। এরই মধ্যে এক বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি তানিয়া আক্তার।
স্বামীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা। কিন্তু দিনমজুরের অভাবী সংসারে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই স্বামীকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ঝাউডগী গ্রামের বাসিন্দা মো. মহসিন কবির মুরাদ। পেশায় দিনমজুর মহসিন দুই বছর আগে তানিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক ছেলেসন্তান, নাম ইমাম হোসেন। সন্তানকে ঘিরে ছিল নানা স্বপ্ন।
দিনমজুরির সামান্য আয় দিয়ে কষ্টে চললেও ছোট্ট পরিবারটি স্বপ্ন দেখেছিল সুন্দর ভবিষ্যতের। কিন্তু ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মহসিন। তাঁর সামান্য আয়ে কোনোমতে চলত সংসার। এখন নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
স্বামীর অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীকে বাঁচাতে চাই। আমার একটি ছোট্ট সন্তান আছে। সে এখনো পৃথিবীকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি। আমার স্বামীর কিছু হলে সন্তানকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব? আমাদের দেখবে কে? সমাজের বিত্তবান মানুষ ও প্রবাসী ভাইদের কাছে অনুরোধ, আপনারা আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য সাহায্য করুন।
মহসিনের অসুস্থতায় শুধু একটি পরিবারই নয়, এক বছরের শিশুটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিবারের স্বজনেরা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে অর্থসংকট তাদের সেই আশাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। মহসিনের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, হৃদয়বান মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হবে এবং মহসিন আবারও পরিবারের কাছে ফিরে সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।
কারও কাছে কয়েকশ টাকা সামান্য মনে হলেও অনেকের ছোট ছোট সহযোগিতা অসহায় পরিবারটির জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে। একটি পরিবারের স্বপ্ন বাঁচাতে, একজন স্ত্রীর চোখের পানি মুছতে এবং শিশুটির মাথার ওপর বাবার স্নেহের ছায়া ধরে রাখার আশায় সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র