মরুর প্রাণি দুম্বার খামার করে জাহিরুলের বাজিমাত

সবুজে ঘেরা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর গ্রাম। নিভৃত এই গ্রামেই গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী দুম্বার খামার।
মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা এখন নজর কাড়ছে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে। শখের বশে শুরু হলেও, তরুণ উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদের উদ্যোগ আজ হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
মাত্র দুই বছর আগে দুম্বা পালনের যাত্রা শুরু করেন জাহিরুল। শুরুতে পাশের দেশ ভারত থেকে এজেন্টের মাধ্যমে তুর্কি জাতের তিনটি দুম্বা সংগ্রহ করেন তিনি। তখন ব্যবসার চিন্তা ছিল না, ছিল শুধুই আগ্রহ আর ভালোবাসা। সেই আগ্রহই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে একটি সফল খামারে।
জাহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ব্র্যাক এনজিওতে চাকরির সুবাদে একটি খামারে প্রথম দুম্বা পালন দেখতে পান তিনি। সেখান থেকেই আগ্রহের জন্ম। পরে নিজ উদ্যোগে শুরু করেন খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে তুর্কি ও আওয়াসি জাতের আটটি দুম্বা। প্রতিটির দাম আড়াই লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ৬ থেকে ৭টি দুম্বা প্রস্তুত করেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, শখ থেকেই শুরু করেছিলাম। এখন ধীরে ধীরে খামার বড় করছি। ভবিষ্যতে প্রান্তিক পর্যায়েও দুম্বা ছড়িয়ে দিতে চাই।
খামারের সার্বিক দেখভাল করেন তার ছোট ভাই জিম মণ্ডল। তিনি বলেন, নিয়মিত যত্ন ও সাধারণ খাবারেই সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে দুম্বাগুলো। ঘাস, খড়, ভুষি ও সরিষার খৈলই তাদের প্রধান খাদ্য। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজনও তুলনামূলক কম।
তিনি আরো বলেন, ছাগল বা ভেড়ার মতোই দুম্বা পালন করা যায়। তেমন কষ্ট হয় না। নিয়মিত খাবার আর পরিচর্যা করলেই ভালো থাকে।
এই খামারটিকে ঘিরে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। অনেকের কাছেই দুম্বা এক নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে স্থানীয়দের মাঝেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে এ প্রাণী পালনে।
দুম্বা দেখতে আসা রাসেল মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, এত কাছ থেকে আগে কখনো দুম্বা দেখিনি। দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি বেশ আকর্ষণীয়। অনেকেই এখন পালনের বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। আমার ইচ্ছা আছে দুম্বা পালনের। আগামীতে করার পরিকল্পনা করছি করার।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম ভোরের আকাশকে বলেন, দুম্বা পালন বর্তমানে লাভজনক একটি সম্ভাবনাময় খাত। জাহিদ ব্যক্তি উদ্যোগে সফলতা পেয়েছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
শখ থেকে শুরু হওয়া জাহিরুল ইসলাম জাহিদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন অনেক তরুণের কাছেই অনুপ্রেরণা। তার স্বপ্ন, একদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে মরুভূমির এই প্রাণী পালনের নতুন সম্ভাবনা।
ভোরের আকাশ/ র.ই