মহেশখালীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ

বর্ষা শেষ হতে না হতেই কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ফের বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই জ্বর ও ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন অসংখ্য রোগী। এতে ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বেড়েছে রোগীর চাপ। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জ্বর ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগীকে মশারি টাঙিয়ে শয্যায় রাখা হয়েছে। হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কোথাও কোথাও এক বেডে একাধিক রোগীকেও থাকতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ জুলাই থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩১৬ জন। চলতি অক্টোবর মাসেও এখন পর্যন্ত ১১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর বাইরে প্রতিদিনই জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহেশখালী পৌরসভা ছাড়াও ছোট মহেশখালী, শাপলাপুর ও দেবেঙ্গাপাড়া এলাকার রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকা থেকে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
হাসপাতালের নার্সরা জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও নিয়মিতই এখানে ১৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে কখনো কখনো একই শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি শয্যা ও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, আশপাশের ঝোপঝাড় ও জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাসাবাড়িতে পানি জমে থাকে এমন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হওয়ায় রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি। এরপরও চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় এখনই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে। মহেশখালীকে ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর ও সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভোরের আকাশ/আ.র