চকরিয়ায় ট্রেন থামানোর দাবিতে মানববন্ধন, বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার যাত্রীদের জন্য আসন বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে চকরিয়া রেলস্টেশন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের মহানগর এক্সপ্রেসসহ আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এসব এলাকার মানুষ রেলসেবার পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ট্রেনে যাতায়াত করতে অনেককে কক্সবাজার সদর কিংবা চট্টগ্রাম শহরে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হলেও চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা, আলীকদম ও বাঁশখালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ সরাসরি এ সুবিধা পাচ্ছেন না। এসব এলাকার যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে অন্য শহরে যেতে হচ্ছে। অথচ চকরিয়া স্টেশনে কয়েক মিনিটের যাত্রাবিরতি চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি রেলসেবার আওতায় আসবেন।
তাদের দাবি, চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির পাশাপাশি এসব এলাকার যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার লাখ লাখ মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনস্বার্থে চকরিয়া রেলস্টেশনে অবিলম্বে ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলো অন্তত পাঁচ মিনিট চকরিয়া স্টেশনে থামানোর দাবি জানান তিনি। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, চকরিয়া স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা না হলে এ দাবিতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনের আয়োজকদের পক্ষে মাতামুহুরী উপজেলা যুবদল নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত হলে চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। জনস্বার্থে দ্রুত এ দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে মানববন্ধনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চকরিয়া রেলস্টেশনে যায়। এ সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের প্রতি পুলিশের সমর্থন রয়েছে। তবে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা রেলওয়ের সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ভোরের আকাশ/সু.পা