পীরগঞ্জে গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

রংপুরের পীরগঞ্জে নগর মাতৃসদন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় গর্ভের সন্তানসহ শ্রাবণী আক্তার (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রংপুর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট সন্তান প্রসবের জন্য আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত পীরগঞ্জ পৌরসভার নগর মাতৃসদন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন শ্রাবণী আক্তার। নিহতের বাবা রিকশাচালক মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, মাতৃসদন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে চিকিৎসায় বিলম্ব হয়। একই সঙ্গে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে তিনি রংপুরের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ হাসান খানকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, প্রসূতি ও তাঁর সন্তানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুন থেকে পীরগঞ্জ পৌরসভায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় নগর মাতৃসদন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। চলতি বছরের ৩০ জুন পীরগঞ্জ পৌরসভা এ প্রকল্পে আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাহার করে।
এরপরও প্রকল্প ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহীম প্রামাণিকের সঙ্গে সমন্বয় করে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট গর্ভের সন্তানসহ শ্রাবণী আক্তারের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরদিন বিক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভের মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসান নগর মাতৃসদন কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। তবে প্রসূতি ও তাঁর সন্তানের মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল, তা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা