মিয়ানমারগামী সিমেন্ট জব্দ, আটক ৩৩

সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট, ৩টি ফিশিং বোটসহ ৩৩ পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী।
রোববার (১৭ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার সারাদিনব্যাপী কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী, স্টেশন সেন্টমার্টিন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় সন্দেহজনক ৩টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে পাচার কাজে ব্যবহৃত ৩টি বোট জব্দ এবং ৩৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হাতিয়া ও সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিমেন্ট বোঝাই করে তারা মিয়ানমারের নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, চোরাচালান ও পাচারচক্রের মূলহোতাদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— ভোলার মনপুরার মোঃ হান্নান, মোঃ রিপন, আব্দুল হালিম ও মোঃ শিফন; লক্ষীপুরের রামগতির মোঃ জুয়েল, মোঃ রিয়াজ, মোঃ সবুজ, মোঃ সোলেমান ও আনোয়ার হোসেন; কক্সবাজারের মহেশখালীর জমির উদ্দিন, মোঃ ফারুক, সাহাবুদ্দিন ও মোঃ মনির; চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মোঃ সরোয়ার, চন্দনাইশের মোঃ তৌহিদ, সন্দ্বীপের মোঃ শিপন ও আলাউদ্দিন, আকবর শাহ এলাকার মোঃ সোহাগ, মোঃ নাদিম, মোঃ জনি, মোস্তাকিন আরাফাত ও সাদ্দাম; মিরসরাইয়ের আব্দুল করিম ও মাঈনউদ্দীন; কুমিল্লার মোঃ শরিফ; সিলেটের কানাইঘাটের মোঃ ফাহাদসহ আরও অনেকে।
জব্দকৃত সিমেন্ট, ফিশিং বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।